
নয়া দিল্লি: বছর বছর নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস (NEET Paper Leak)! অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ। প্রশ্ন ফাঁস রুখতে ও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বদল আনতেই বিক্ষোভে পথে নেমেছে দেশের ছাত্র-যুবরা। দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের মাঝেই এবার কেন্দ্রের বিরাট পদক্ষেপ। প্রশ্নপত্র ফাঁস-চুরি রুখতে কড়া আইন আনতে চলেছে কেন্দ্র। আজই খসড়া বিল পেশ করা হতে পারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
গতকাল রাতেই আন্দোলনকারী ছাত্রদের উদ্দেশে ভিডিয়ো বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি প্রশ্নফাঁস রুখতে সরকার যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে, তার আশ্বাস দেন। এরপরই নতুন বিলের পরিকল্পনা। বর্তমানে প্রশ্নপত্র ফাঁস, চুরি ও নকল নিয়ে যে আইন আছে, তা আরও কঠোর করতেই নতুন বিল আনা হবে। পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট ২০২৪-এ সংশোধন করা হবে।
সূত্রের খবর, আজ শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার যে বৈঠক রয়েছে, সেখানে এই সংশোধনী বিল পেশ করা হতে পারে এবং আজই সেই সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করা হতে পারে। নতুন আইনে প্রশ্নফাঁসের ক্ষেত্রে ফাস্ট ট্রাক কোর্ট তৈরির প্রস্তাব থাকবে। পাশাপাশি দোষীদের সাজাও আরও বাড়ানো হবে।
গতকালই প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছিলেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁসে ফাস্ট ট্রাক কোর্ট গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, নতুন বিলে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জেলের সাজা আরও বাড়ানো এবং আর্থিক জরিমানার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে প্রশ্ন ফাঁসের অপরাধে তিন থেকে পাঁচ বছরের জেল এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
সূত্রের খবর, এই জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করা হতে পারে। যদি পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নফাঁস করা হয়, তাহলে অপরাধীদের ৫ থেকে ১০ বছরের জেল ও ন্যূনতম ১ কোটি টাকা জরিমানা করা হতে পারে। যদি কেউ অপরাধের অভিযোগ না জানান, তাহলে তাদেরও ১ কোটি টাকা জরিমানা করা হতে পারে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে যদি কোনও পড়ুয়া আত্মহত্যা করে, তাহলে তার পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
আজ ক্যাবিনেটের অনুমোদন পেলেই আগামী সোমবারই লোকসভায় এই বিল পেশ করতে পারে সরকার।
সংসদে বিল পেশ নিয়েও কেন্দ্রের স্ট্র্যাটেজি রয়েছে। সূত্রের খবর, সংসদে বিল পেশের সময় আলোচনায় কংগ্রেস জমানার প্রশ্ন ফাঁস তুলে ধরবে কেন্দ্র। আর যদি বিরোধীরা এই আলোচনায় অংশ না নেয়, তাহলেও কেন্দ্রের কাছে আক্রমণ করার সুযোগ থাকবে যে নিজেরাই দাবি জানিয়ে বিরোধীরা এখন সদর্থক আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না।