
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ আগামী ১ জুলাই ১১ বছর পূর্ণ করতে চলেছে। ২০১৫ সালের ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ গত এক দশকে দেশের প্রশাসন, অর্থনীতি ও নাগরিক পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিয়ে ডিজিটাল ইন্ডিয়া আজ ভারতের ডিজিটাল রূপান্তরের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একাধিকবার বলেছেন, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির প্রসার নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে ডিজিটালভাবে ক্ষমতায়ন করা। গত ১১ বছরে এই উদ্যোগের ফলে ই-গভর্নেন্স থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিক লেনদেন এবং সরকারি পরিষেবায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে।
ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং সহজলভ্য করা হয়েছে। জন ধন যোজনা, আধার এবং মোবাইল সংযোগ—এই ‘জ্যাম (JAM) ট্রিনিটি’-র মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষকে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতির সুযোগ অনেকটাই কমেছে।
আধার: বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা
আধার প্রকল্প বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা। দেশের ১৪৪ কোটিরও বেশি নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বতন্ত্র ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করা হয়েছে।
ইউপিআই: নগদবিহীন অর্থনীতির নতুন দিশা-
ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI) এখন বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল পেমেন্টের অন্যতম সফল মডেল। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৪,১৬২ কোটি ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যা ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের প্রমাণ।
ডিজি-লকার: কাগজবিহীন প্রশাসনের পথে-
ডিজি-লকার নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ নথি নিরাপদে সংরক্ষণ ও অনলাইনে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে। বর্তমানে ৭০.৬৯ কোটিরও বেশি মানুষ এই পরিষেবার সুবিধা নিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই ৮৫০ কোটিরও বেশি ডিজিটাল নথি এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জারি করা হয়েছে।
ই-সঞ্জীবনী: হাতের মুঠোয় স্বাস্থ্যসেবা-
গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে ই-সঞ্জীবনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই টেলিমেডিসিন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪৮ কোটিরও বেশি অনলাইন চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দীক্ষা: ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার-
স্কুল শিক্ষাকে আরও আধুনিক ও সহজলভ্য করতে চালু করা হয়েছে ‘দীক্ষা’ (DIKSHA) ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম। বর্তমানে এর নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি।
ওএনডিসি (ONDC): উন্মুক্ত ডিজিটাল বাজার-
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে চালু হওয়া ONDC বর্তমানে দেশের এক হাজারেরও বেশি শহরে বিস্তৃত। ২০ কোটিরও বেশি ভোক্তা এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের সুবিধা গ্রহণ করছেন।
গত ১১ বছরে ডিজিটাল ইন্ডিয়া শুধু সরকারি পরিষেবাকে আধুনিক করেনি, বরং দেশের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলেছে। ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন শিক্ষা, টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ এবং ই-গভর্নেন্স—সব ক্ষেত্রেই ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম অগ্রণী ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।