
নয়া দিল্লি: সংসদেও আলাদা হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। আসন্ন বাদল অধিবেশন থেকে লোকসভায় মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে আলাদা বসবে বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ, যারা এখন এনসিপিআই (NCPI) নামক একটি ছোট দলের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন। একইভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে শিবসেনার ছয় সাংসদও। তাদের উদ্ধব ঠাকরের দল থেকে একনাথ শিন্ডের শিবসেনায় মিশে যাওয়াকে শনিবারই স্বীকৃতি দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)। এই সাংসদরাও এবার এনডিএ (NDA) শিবিরে বসবেন।
আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। এই অধিবেশন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বিভিন্ন কারণে। একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস ও শিবসেনা (ইউবিটি)-র ভাঙনে এনডিএ-র শক্তি বৃদ্ধি হচ্ছে, তেমনই আবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিলও পেশ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। শিবির বদল করা সাংসদদের সমর্থন এই বিল গুলি পাশ করাতে সাহায্য করবে।
এবারের বাদল অধিবেশনেই তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ, যাদের মধ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, দেব রয়েছেন, তারা এনসিপিআই-র সঙ্গে মার্জ বা মিশে যাওয়ার পর, ওই দলের সাংসদ হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করার আশায় রয়েছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এনসিপিআই সাংসদদের লোকসভায় আলাদা বসার স্থান বরাদ্দ করায়, তারা যে স্বীকৃতির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন, এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
শোনা যাচ্ছে, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর দিনই এনসিপিআই সাংসদদের স্বীকৃতি দিতে পারেন ওম বিড়লা। ইতিমধ্যেই সংসদের অধিবেশন শুরুর আগের দিন সর্বদলীয় বৈঠকে ডাক পেয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শনিবার প্রধানমন্ত্রী মোদীর দেখা করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার লোকসভার অফিস থেকে যে অভ্যন্তরীণ সার্কুলার জারি করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে শিবসেনার ১৩ জন সাংসদ রয়েছে এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র তিনজন সাংসদ রয়েছে। এই দুই দলের সাংসদ আলাদা বসবে। একইভাবে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে এনসিপিআই হয়ে যাওয়া ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদও আলাদা বসবেন।
বর্তমানে মহারাষ্ট্র থেকে এনডিএ-র সবথেকে বড় শরিক শিবসেনা। ২০২৪ সালে তারা মাত্র সাতটি আসন জিতলেও, গত জুন মাসেই উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার ছয়জন সাংসদ একনাথ শিন্ডের দলে চলে আসেন। ফলে তাদের সাংসদ সংখ্যা ১৩-তে পৌঁছেছে।
যদি এনসিপিআই-ও স্বীকৃতি পেয়ে যায়, তাহলে লোকসভায় এনডিএ-র সাংসদ সংখ্যা ৩১৯-এ পৌঁছবে। দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হয় ৩৬০-এ, অর্থাৎ এখনও ৪১ জন সাংসদের প্রয়োজন।