
ভুবনেশ্বর: ওড়িশার জঙ্গলে ওরাংওটাং! বালাসোর জেলার জঙ্গলে হঠাৎ নজরে আসে পাঁচটি শিশু ওরাংওটাং। ওই ওরাংওটাং দেখে চমকে যান স্থানীয় বন দফতরের কর্মী-আধিকারিকরা। কারণ, ওরাংওটাং তো ওড়িশার জঙ্গলে পাওয়ার কথা নয়। এমনকী, ভারতেই থাকার কথা নয়। তাহলে ওই পাঁচ শিশু ওরাংওটাং কোথা থেকে? ইতিমধ্যেই সেই নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ এজেন্সিও তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, তিনটি পুরুষ ও দুটি মহিলা ওরাংওটাং পাওয়া গিয়েছে। বিপন্ন প্রজাতির ওই ওরাংওটাং গুলির এক একটিরই দাম ২৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক কালোবাজারে দাম ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকারও বেশি। উদয়পুর-তালসারির জঙ্গলের কাছে ঝাউবনের ভিতর থেকে পাওয়া যায় ওরাংওটাং।
তদন্তকারীদের অনুমান, ভায়া ভারত হয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ওরাংওটাংগুলিকে পাচার করা হচ্ছিল। হঠাৎ কোনও কারণে বা বন দফতরের আধিকারিকদের আসার আঁচ পেয়ে, তারা ওরাংওটাংগুলিকে জঙ্গলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। মনে করা হচ্ছে, সড়কপথে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে কলকাতা বা অন্য কোনও শহরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
মঙ্গলবার ভোরবেলায় প্রথমে ভোগরাই ব্লকের গ্রামের বাসিন্দারাই ওরাংওটাংগুলিকে দেখতে পান। গাছে ঝুলছিল ওরাংওটাংগুলি। সঙ্গে সঙ্গে বন দফতরে খবর দেওয়া হয়। বন দফতরের আধিকারিক ও সিমলিপাল ন্যাশনাল পার্কের স্পেশালাইজড ভেটেরিনারি টিম আসে। আপাতত ভুবনেশ্বরের নন্দনকানন জুওলজিক্যাল পার্কে রাখা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বন্দর, রেলস্টেশন, এয়ারপোর্টের কার্গো টার্মিনালেরও সিসিটিভি দেখা হচ্ছে। ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোও তদন্তে যোগ দিয়েছে। ওরাংওটাংগুলির ডিএনএ পরীক্ষা ও প্রজাতি প্রোফাইলিং করা হবে প্রোটোকল অনুযায়ী।