
সরকারি হাসপাতালের অপারেশনে টেবিলে শুয়ে প্রসূতি। ‘লেবার পেনে’ তখন ছটফট করছেন হবু মা। এদিকে বাচ্চার ডেলিভারি আটকে দিয়েছেন জেলা সদর হাসপাতালের নার্স। অন্য কোনও সমস্যা নয়, নার্সের দাবি তাঁকে টাকা না দিলে হবে না অপারেশন। আরও ভাল ভাবে বললে ঘুষ না দিলে।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিয়ো। ঘটনাটি উড়িষার। পড়শি রাজ্যের ঝড়সুগুড়া জেলা সদর হাসপাতালের ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে প্রসূতি বিভাগের এক নার্স অপারেশনের আগে মহিলার আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন।
ভাইরাল ভিডিয়োয় টাকা নিতে দেখতে পাওয়া সেই নার্স আসলে অপারেশন থিয়েটারের নার্স-ইন-চার্জ নীলিমা প্যাটেল। স্পষ্টতই অন্য একজন মহিলার কাছ থেকে টাকা নিতে দেখা যায় তাঁকে। এই ঘটনা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
এই বিষয়ে ঝাড়সুগুড়ার মুখ্য জেলা চিকিৎসা কর্মকর্তা (সিডিএমও) বলেন, “অভিযোগকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃক গঠিত কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন আমার কাছে জমা দিয়েছে। আমরা ব্যবস্থা নেব। অভিযোগকারী হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগে আমাদের জানিয়েছেন যে তিনি ২০০০ টাকা ঘুষ দিয়েছেন।”
প্রসঙ্গত, দিল্লি থেকেও এমন ঘটনা উঠে এসেছে আগে। গত বছর, সিবিআই দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে একটি বড় ঘুষ চক্রের পর্দাফাঁস করেছিল। সূত মারফত সিবিআই খবর পায়, একটি চক্র চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে ঘুষ নিচ্ছে। এর মধ্যে হাসপাতালের ডাক্তার এবং কর্মীরাও রয়েছেন। সিবিআই যখন প্রাথমিক তদন্ত করে, তখন দেখা যায় যে আরএমএল হাসপাতালে ৫টি মডিউলের মাধ্যমে ঘুষ দেওয়া হচ্ছিল। ওই সময়, দু’জন সিনিয়র হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।