
নয়া দিল্লি: বাংলায় সরকার বদলের পরই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে চাপান-উতোর শুরু হয়েছে, তা এখনও অব্যাহত। ঋত-শিবিরের সঙ্গে প্রতীকের লড়াই তো আছেই, জট কাটছে না দিল্লিতেও। সেই আবহেই লোকসভার স্পিকার (Speaker) ওম বিড়লার সঙ্গে ফের দেখা করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। স্পিকারকে ২০টি চিঠি দেওয়ার পরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হল না, জানতে চাইলেন অভিষেক।
দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ২০ জন এনসিপিআই সাংসদের জন্য পৃথক ২০টি চিঠি দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। জুুন মাসেই দেওয়া হয়েছিল ওই চিঠি। তারপর জুলাই মাসে ফের স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক। তারপরও তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক। দ্বিতীয় প্রশ্ন হল, আবেদন না করা সত্ত্বেও কেন তৃণমূল সাংসদদের আসন পরিবর্তন করা হল? অভিষেককে প্রথম রো থেকে সরিয়ে দ্বিতীয় রো-তে আসন দেওয়া হয়েছে।
অভিষেক জানান, স্পিকার তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন, পরবর্তী অধিবেশন অর্থাৎ শীতকালীন অধিবেশনের আগে বিষয়গুলি নিয়ে জানিয়ে দেবেন তিনি। অভিষেকের বক্তব্য, হয় এনসিপিআই-কে মান্যতা দিয়ে দিক, নাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ২ মাস পরও কেন কোনও সদুত্তর মিলল না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অভিষেক বলেন, “৩ মাসের মধ্য়ে বিবেচনা করতে হবে বলে অর্ডার দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। স্পিকার বিবেচনা না করলে, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করব।”
এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সত্ত্বেও কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের নামের পাশে এখনও লেখা থাকছে তৃণমূলের নাম। কাকলি বলেন, “এটা স্পিকারের বিষয়। ২০ জন সাংসদ একটা দল পরিত্যাগ করে চলে এসেছেন। স্পিকার মান্যতা দেবেন। কোনও নথি সংক্রান্ত সমস্যার জন্য হয়ত সময় লাগছে।” তৃণমূলকে কটাক্ষ করে কাকলির বক্তব্য, “ওদের কতজন আছে, বাকিরা কোথায় গেল, সেটা আগে দেখুক।” বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যও বিষয়টি স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন।