Adultery law: আইন নেই বলেই পরকিয়া করে পার পেয়ে যাবেন, তা হতে পারে না: দিল্লি হাইকোর্ট

Adultery law: আদালত আরও বলেছে, দুই বিবাহের অপরাধের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী স্ত্রীকে তাঁর স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহের প্রমাণ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া সমাজ এবং ওই স্ত্রীর জন্য বিপজ্জনক। কারণ, প্রথম বিয়ে টিকে থাকাকালীন, কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করলে, সাধারণত সেটা গোপনে করে। তাই, তা প্রমাণ করা অসুবিধাজনক।

Adultery law: আইন নেই বলেই পরকিয়া করে পার পেয়ে যাবেন, তা হতে পারে না: দিল্লি হাইকোর্ট
প্রতীকী ছবিImage Credit source: TV9 Bangla

Jan 08, 2024 | 9:52 AM

নয়া দিল্লি: ২০১৮ সালে ভারতে ব্যভিচারকে অপরাধের আওতা থেকে মুক্ত করেছিল সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সংবিধানিক বেঞ্চ। কিন্তু, এই সংক্রান্ত কোনও আইন নেই বলে, কোনও ব্যক্তি প্রথম বিবাহের টিকে থাকাকালীন গোপনে অন্য কাউকে বিয়ে করবেন, এটা হতে পারে না। সাফ জানাল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, বিবাহের পবিত্রতা এবং মূল্যবোধ রক্ষায়, এই ধরনের ব্যক্তিগের সঙ্গী বা সঙ্গিনীদের আইনগত সুরক্ষা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত আরও বলেছে, দুই বিবাহের অপরাধের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী স্ত্রীকে তাঁর স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহের প্রমাণ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া সমাজ এবং ওই স্ত্রীর জন্য বিপজ্জনক। কারণ, প্রথম বিয়ে টিকে থাকাকালীন, কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করলে, সাধারণত সেটা গোপনে করে। তাই, তা প্রমাণ করা অসুবিধাজনক। কারণ এই ক্ষেত্রে বিয়ের সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান মেনে বা আইনত স্বীকৃত ফর্মের মাধ্যমে তারা বিয়ে নাও করা হতে পারে।

ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা, অর্থাৎ, দুই বিবাহ আইনে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন এক মহিলা। এই বিষয়ে তিনি যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি বলে, ২০১৯ সালে মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিল দায়রা আদালত। সেই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০১৫ সালে তাঁর স্বামী স্থানীয় পুরোহিত এবং তাঁদের পরিবারের উপস্থিতিতে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন। সেই মহিলার সঙ্গে তাঁর স্বামীর এক কন্যা সন্তানও আছে। এমনকি তাদের প্রতিবেশী এবং নিরাপত্তারক্ষীরাও তাঁর স্বামী এবং দ্বিতীয় মহিলাকে বিবাহিত দম্পতি বলে স্বীকার করেছেন। তাদের মেয়ের জন্মের শংসাপত্রেও তাঁর স্বামীর নাম রয়েছে মেয়েটির বাবা হিসেবে।

দায়রা আদালত বলেছিল, তাঁর বক্তব্য প্রমাণ করার জন্য আবেদনকারীকে স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের প্রমাণ দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু, মহিলা তাঁর স্বামী এবং অন্য মহিলার বিবাহের অনুষ্ঠানের বিষয়ে কোনও মৌখিক প্রমাণ বা অন্য কোনও প্রামাণ্য নথি দিতে পারেননি। পবিত্র অগ্নিকে ঘিরে সপ্তপদী। দায়রা আদালত আরও বলেছিল, আবেদনকারী মহিলা কিছু ছবি ও নথি প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছেন। কিন্তু, তাতে তাঁর স্বামী যে দ্বিতীয় মহিলাকে বিয়ে করেছেন, তার যথেষ্ট প্রমাণ নেই। সেগুলি থেকে তাঁরা একসঙ্গে থাকেন, বা, লিভ-ইন সম্পর্কে আছেন, প্রমাণ করা যেতে পারে। আর লিভ-ইনে থাকাটা আইনত অপরাধ নয়।

দিল্লি হাইকোর্টে আবেদনকারী মহিলা জানান, কোনও শুনানি ছাড়াই নিম্ন আদালত তাঁর স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহের এবং তাদের সন্তানের জন্মের ছবি উপেক্ষা করেছে। তাঁর মতে এই ছবিগুলি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। তাঁর স্বামীর পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থানীয় পুরোহিতের উপস্থিতিতে তিনি যে অন্য মহিলাকে বিয়ে করেছেন, এই বিষয়ে আবেদনকারী ভুয়ো অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সম্পর্কে কোনও বিশদ দিতে পারেননি তিনি।

দিল্লি হাইকোর্ট কিন্তু, আবেদনকারী মহিলার পক্ষেই রায় দিয়েছে। ৩২-পৃষ্ঠার রায়ে বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা বলেছেন, “যদি কোনও স্ত্রী বা স্বামী, তাঁর সঙ্গীর দ্বিতীয় বিবাহের কোনও অনুষ্ঠানের প্রমাণ দিতে না পারেন, সেই ক্ষেত্রে সেই অক্ষমতাকে আইনি পরিণতি এড়ানোর উপায় হিসাবে অপব্যবহার করা অনুচিত। এটা আশা করা যায় না যে, কোনও স্বামী তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জানিয়ে বা তাঁর উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বার বিয়ে করবে। যাতে তিনি তাঁর (স্বামীর) দ্বিতীয় বিবাহের প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেন।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us