
নয়া দিল্লি: জ্বালানিতে আসছে আমূল পরিবর্তন। ক্লিন এনার্জির (Clean Energy) পথে হাঁটছে ভারত। ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে ই২০ জ্বালানি (E20 Fuel)। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে আরেকটি বড় পরিকল্পনা কেন্দ্রের। পেট্রোলে যেমন ২০ শতাংশ ইথানল (Ethanol) মেশানো হচ্ছে, তেমনই এবার ডিজেলে (Diesel) আইসোবিউটানল (isobutanol) মেশানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ কথা জানালেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও হাইওয়েজ মন্ত্রী নিতিন গড়করি (Nitin Gadkari)।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির উপরে নির্ভরশীলতা কমিয়ে গ্রিন এনার্জি-ক্লিন এনার্জির পথে এগোচ্ছে দেশ। আর সেই লক্ষ্যেই ১৫ শতাংশ আইসোবিউটানল মিশ্রিত ডিজেল আনার পরিকল্পনা। কেন্দ্রের জ্বালানি পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন যে ডিজেলে সরাসরি ইথানল মেশানো যায় না। তাই বিকল্প হিসাবে ইথানল থেকে আইসোবিউটানল তৈরির প্রচেষ্টা চলছে। আইসোবিউটানল ডিজেলের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে বলেই তিনি জানান।
নিতিন গড়করি বলেন, “আমরা ১০০ শতাংশ ইথানল ও আইসোবিউটানল দিয়ে দুটি জেনারেটর সফলভাবে চালিয়েছি। এটা প্রমাণ করে যে এই ধরনের জ্বালানিতে চলার পর মতো ইঞ্জিন তৈরি করা সম্ভব।”
কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের মতে, ডিজেলে আইসোবিউটানল মিশ্রণ বা আইসোবিউটানল-কেই যদি জ্বালানি হিসাবে গ্রহণ করা হয়, তবে ভারতের ক্রুড তেল আমদানির উপরে নির্ভশীলতা অনেকটাই কমে যাবে।
আইসোবিউটানল কী?
আইসোবিউটানল (Isobutanol) হল একটি বর্ণহীন, দাহ্য অ্যালকোহল, যার রাসায়নিক সংকেত C₄H₁₀O। এটি বিউটানল (Butanol)-এর একটি আইসোমার (isomer), অর্থাৎ একই রাসায়নিক সংকেত হলেও অণুর গঠন ভিন্ন।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে পেট্রোল পাম্পে উপলব্ধ ই২০ জ্বালানি নিয়ে বেশ বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকারের ইথানল ব্লেন্ডিং প্রোগ্রাম নিয়ে নানা ভুয়ো তথ্য রটতেই কেন্দ্রের তরফে সাফাই দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, ইথানল ব্লেন্ডিং জ্বালানি অর্থাৎ ই২০ (E20) ব্যবহার করলে গাড়ির ইঞ্জিনে কোনও ক্ষতি হচ্ছে না। গাড়ির মাইলেজও কমে যাচ্ছে না। ই২০ ব্যবহার করার কারণে গাড়ির ইন্সুরেন্স বা ওয়ারেন্টিতেও কোনও প্রভাব পড়বে না।