
নয়া দিল্লি: মাঝ আকাশে তীব্র ঝাঁকুনি। তারপরই প্রায় কয়েকশো ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল বিমান। গত সপ্তাহেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান (Air India Flight)। আহত হয়েছিলেন প্রায় ১৫জন যাত্রী। এবার এই ঘটনায় আরও বড় তথ্য উঠে এল। জানা গিয়েছে,ওই বিমানের পাইলট ডোপ টেস্টে (Pilot Dope Test) ফেল করেছেন। অর্থাৎ বিমান চালানোর সময় প্রকৃতিস্থ অবস্থায় ছিলেন না তিনি। তবে, এখনও তা চূড়ান্ত নয়। আরও একটি টেস্টের রেজ়াল্ট আসা বাকি রয়েছে বলে সূত্রের খবর। এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে এখনও এই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি।
জানা গিয়েছে, দিল্লিতে বিমান অবতরণের পর নিয়ম মেনেই ডোপ টেস্ট করা হয়। পাশাপাশি আরও একটি পরীক্ষা করা হয়েছে, যার রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। সূত্রের খবর, ডোপ টেস্টে মাদকজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি মিলেছে। মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে এমন পদার্থ পাওয়া গিয়েছে পোস্ট-ফ্লাইট স্ক্রিনিংয়ে। এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, কোনও মন্তব্য করার পরিস্থিতি এখনও পর্যন্ত তৈরি হয়নি।
এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র বলেন,”নির্ধারিত নিয়ম মেনেই পাইলটদের পোস্ট-ফ্লাইট স্ক্রিনিং করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে পরীক্ষার ফলাফল এখনও এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে শেয়ার করা হয়নি। তাই কোনও ফলাফল নিয়ে এই মুহূর্তে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।” তদন্ত চলছে। জানা গিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই পাইলটকেই ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
প্রথমবার কোনও ক্রু সদস্যের ডোপ টেস্ট পজিটিভ হলে তাঁকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। নেগেটিভ ডোপ টেস্ট রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত তিনি ফের কাজে যোগ দিতে পারবেন না। দ্বিতীয়বার একই ধরনের ঘটনা ঘটলে তিন বছরের জন্য লাইসেন্স সাসপেন্ড হতে পারে। তৃতীয়বার একই অপরাধ হলে লাইসেন্স বাতিলও হতে পারে।
তবে চিকিৎসকের পরামর্শে খাওয়া কিছু ওষুধের প্রভাবেও পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসতে পারে। তাই ডোপ টেস্টের আগে কোনও ওষুধ খেলে তা সংশ্লিষ্ট ক্রু সদস্যকে জানাতে হয়।
গত ৪ অগস্ট ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 বিমানটি বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচে। ওই বিমানে ১৩৭ জন যাত্রী এবং আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন। জানা গিয়েছে, মাঝ আকাশে হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনি হয় বিমানে। তারপর আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায় বিমানটি। ঘটনায় অন্তত ১৩ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য আহত হন। পরে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানিয়েছিলেন, দুই ক্রু সদস্যের মেরুদণ্ডের নীচের অংশে এবং ঘাড়ে চোট লাগে। আহত অবস্থাতেও সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলানোর জন্য তিনি ক্রু সদস্যদের প্রশংসা করেন।