Taj Mahal: মন্দিরকে মুমতাজের সমাধি বানিয়েছেন শাহজাহান? তাজমহল নিয়ে এবার হলফনামা চাইল আদালত

Taj Mahal Temple Claim: আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘তেজো মহালয়া’ নামে পরিচিত একটি প্রাচীন শিবমন্দির ১১৫৫-৫৬ খ্রিস্টাব্দে রাজা পরমার্দি দেব নির্মাণ করেছিলেন। পরে সেটি রাজা মান সিং এবং পরবর্তীকালে রাজা জয় সিং-এর মালিকানায় ছিল। আবেদনকারীদের অভিযোগ, মুঘল সম্রাট শাহজাহান পরবর্তীতে তা দখল করে ইসলামি স্থাপত্যশৈলী সংযোজনের মাধ্যমে সেটিকে তাঁর স্ত্রী মুমতাজ মহলের সমাধিসৌধে রূপান্তরিত করেন।

Taj Mahal: মন্দিরকে মুমতাজের সমাধি বানিয়েছেন শাহজাহান? তাজমহল নিয়ে এবার হলফনামা চাইল আদালত
তাজমহল (ফাইল ফোটো)

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Jul 07, 2026 | 6:08 PM

প্রয়াগরাজ: বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ, মথুরার শাহি ইদগাহ মসজিদের পর এবার তাজমহল। ওয়ার্ল্ড এই হেরিটেজ সাইটে আসলে ‘তেজো মহালয়া’ নামে পরিচিত একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির ছিল বলে দাবি। এই নিয়ে আবেদন জমা পড়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে। তার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও আর্কেওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া বা এএসআই-কে পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি রোহিত রঞ্জন আগরওয়ালের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।

আবেদনকারীদের দাবি, তাজমহলের স্থাপত্যে এমন ১০৯টি প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা এর হিন্দু উৎসের ইঙ্গিত দেয়। এই দাবির ভিত্তিতে তাঁরা স্মৃতিস্তম্ভটির বিস্তারিত পরিদর্শন, আলোকচিত্র ও ভিডিয়োগ্রাফির জন্য একজন অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের আবেদন করেছিলেন। তবে আগ্রার একটি দেওয়ানি আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আবেদনকারীরা।

‘ভগবান শ্রী অগ্রেশ্বর মহাদেব নগ্নথেশ্বর বিরাজমান’-এর পক্ষে তাঁর ‘নেক্সট ফ্রেন্ড’ হিসেবে আইনজীবী হরি শঙ্কর জৈন এবং কয়েকজন ভক্ত এই আবেদন দাখিল করেছেন। তাঁদের দাবি, তাজমহলকে হিন্দু মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হোক এবং সেখানে হিন্দুদের দর্শন ও পূজার অনুমতি দেওয়া হোক। আবেদনকারীদের বক্তব্য, ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার তাঁদের রয়েছে।

আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘তেজো মহালয়া’ নামে পরিচিত একটি প্রাচীন শিবমন্দির ১১৫৫-৫৬ খ্রিস্টাব্দে রাজা পরমার্দি দেব নির্মাণ করেছিলেন। পরে সেটি রাজা মান সিং এবং পরবর্তীকালে রাজা জয় সিং-এর মালিকানায় ছিল। আবেদনকারীদের অভিযোগ, মুঘল সম্রাট শাহজাহান পরবর্তীতে তা দখল করে ইসলামি স্থাপত্যশৈলী সংযোজনের মাধ্যমে সেটিকে তাঁর স্ত্রী মুমতাজ মহলের সমাধিসৌধে রূপান্তরিত করেন।

এই দাবির সমর্থনে আবেদনকারীরা কয়েকটি স্থাপত্যগত বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, মার্বেলের গম্বুজের উপরে পদ্মপাপড়ি-সজ্জিত কলস হিন্দু মন্দির স্থাপত্যের একটি বৈশিষ্ট্য। এছাড়া তাজমহল কমপ্লেক্সের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি কাঠামোকে এএসআই-এর নথিতে ‘গোশালা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও আবেদনকারীদের দাবি। তাঁদের বক্তব্য, এ ধরনের কাঠামো সাধারণত হিন্দু মন্দিরের সঙ্গেই বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এএসআই স্মৃতিস্তম্ভটির কয়েকটি তলা তালাবদ্ধ রেখে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত করেছে। একইসঙ্গে শুক্রবার মুসলিমদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হলেও অন্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ তুলেছেন আবেদনকারীরা।

এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত ২০১৯ সালে। সে সময় আগ্রার একটি আদালতে অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের আবেদন করা হয়েছিল। অতিরিক্ত দেওয়ানি বিচারক (সিনিয়র ডিভিশন) আবেদনটি খারিজ করে দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, আবেদনকারীরা জমির সংশ্লিষ্ট রাজস্ব নথি দাখিল করতে পারেননি। পাশাপাশি তাঁদের বর্ণিত সীমানাও সরকারি নথির সঙ্গে মেলেনি।

পরবর্তীতে চলতি বছরের এপ্রিলে আগ্রার অতিরিক্ত জেলা বিচারক পুনর্বিবেচনার আবেদনও খারিজ করে দেন। সেই দুই আদেশকেই চ্যালেঞ্জ করে আবেদনকারীরা এলাহাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, নিম্ন আদালত মূল বিষয়ের পরিবর্তে অপ্রাসঙ্গিক কারণ দেখিয়ে আবেদন খারিজ করেছে। যেহেতু এএসআই-সুরক্ষিত এই স্মৃতিস্তম্ভে তাঁদের অবাধ প্রবেশাধিকার নেই, তাই মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির স্বার্থে আদালত-নিযুক্ত একজন কমিশনারের মাধ্যমে পরিদর্শন, ছবি ও ভিডিয়োগ্রাফির অনুমতি দেওয়া উচিত।

এর পাশাপাশি একটি অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনেও এএসআই-এর ডিরেক্টরকে নির্দেশ দিয়ে আবেদনকারীদের উপস্থিতিতে তাজমহলের অভ্যন্তর ও বহির্ভাগের ছবি তুলে তা হাইকোর্টে জমা দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। এই আবেদনের প্রেক্ষিতেই কেন্দ্র ও এএসআই-কে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

Follow Us