
কলকাতা: দ্বিতীয়বার আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মসনদে বসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসেই দেখা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। সঙ্গে সঙ্গেই হয়ে গেল বড় ঘোষণা। ভারতকে ফিফথ জেনারেশন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেবে আমেরিকা। এই খবরেই এখন তোলপাড় গোটা বিশ্ব। দুরু দুরু বুকে খবরে নজর চিন-পাকিস্তানের মতো দেশগুলির। কিন্তু, কেন এত চর্চা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে? কী এমন বিশেষত্ব রয়েছে এই স্পেশ্য়াল ফাইটার জেটের যা দেখে ভয়ে কাঁপে শত্রুরাও।
সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফাইটার জেটই আগামীতে ভারতের জন্য হতে পারে গেম চেঞ্জার। আমেরিকার F-35 লাইটনিং II যুদ্ধবিমানই পঞ্চম প্রজন্মের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান যার মধ্যে রয়েছে উন্নত স্টিলথ প্রযুক্তি। তৈরি করেছে লকহিড মার্টিন। হালকা ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত এই যুদ্ধবিমানের এমন ক্ষমতা রয়েছে যার কারণে শত্রুপক্ষের র্যাডারও একে ধরতে পারে না। কার্যত মেঘনাদের মতো আড়ালে থেকেই চোখের নিমেষে ধ্বংস করে দিতে পারে শত্রু ঘাঁটি। শত্রুদের কাছে অদৃশ্য থেকেও ঢুকে যেতে পারে তাঁদের ডেরায়। ঘরে ঢুকে মেরে আসতে এর জুড়ি মেলা ভার। শত্রুপক্ষের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকায় ঢোকাও F-35-র কাছে যেন বা হাতের খেলা।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এই যুদ্ধবিমানের আবার তিনটি ভাগ রয়েছে। তালিকায় রয়েছে প্রথম শ্রেণির বিমান F-35A। এটির ক্ষমতা যদিও সাধারণ যুদ্ধবিমানের মতোই। রয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির F-35 B। উড়তে উড়তে আচমকা পাক খেয়ে সোজা নামার কৌশল দেখলে চোখে ধাঁধা লাগতে পারে যে কারও। আবার চোখে পলকে পাখির মতো কয়েক সেকেন্ডে উড়েও যেতে পারে। অন্যদিকে তৃতীয় শ্রেণীর F-35 C বিমানগুলি আবার বিমানবাহী রণতরী থেকে ওড়ার ক্ষমতা রাখে। সম্প্রতি চিন চিন দু’টি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে। বর্তমানে বিশ্বের মাত্র তিনটি দেশের কাছে এটি আছে – আমেরিকা, চিন এবং রাশিয়া। ভারতের হাতে এই বিধ্বংসী সমরাস্ত্র এলে ভারতও যে এবার এই তিন দেশের সমকক্ষ হয়ে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।