
শ্রীনগর: রবিবার সকাল থেকে টানটান উত্তেজনা উপত্যকায়। জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) সোপিয়ান জেলায় চলছে বিরাট সন্ত্রাস দমন অভিযান (Shopian Anti-Terror Operation)। গতকাল থেকেই এই অভিযান শুরু হয়েছিল। রাতে সাময়িক স্থগিত রাখার পর আবার সকাল থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। এখনও দুই লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি (Lashkar-e-Taiba Terrorist) ফলের বাগানে লুকিয়ে রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, সেনাবাহিনী ও সেন্ট্রাল রিভার্জ ফোর্স মিলে এনকাউন্টার অভিযান চালাচ্ছে। শুক্রবার প্রথম সার্ভিল্যান্স ক্যামেরায় ধরা পড়ে জঙ্গিরা। জম্মু-কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলায় মেমান্দার এলাকা সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলেছে যৌথ বাহিনী। গতকাল থেকেই চিরুণি তল্লাশি চলছে জঙ্গিদের খোঁজে।
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, ফলের বাগানে যে দুই জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে, তাদের নাম জ়াকির ও লতিফ। এরা দু’জনেই দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলায়। জ়াকির ২০২৪ সাল থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত। লতিফ গত বছর লস্কর-ই-তৈবায় যোগ দেয়।
সেনা বাহিনী যখন এগোচ্ছিল, সেই সময় জঙ্গিরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপরই পাল্টা গুলি চালায় সেনা, শুরু হয় এনকাউন্টার অভিযান। দীর্ঘক্ষণ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে গুলি লড়াই চলে। এখনও দুই জঙ্গি জীবিত রয়েছে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। তারা সম্ভবত সোপিয়ানের ওই অঞ্চলের গভীর ফলের বাগানের ভিতরে লুকিয়ে আছে। তবে যৌথ বাহিনী ইতিমধ্যেই বেরনোর সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে। চলছে তল্লাশি অভিযান।
সেনাবাহিনীর বিশেষ কাউন্টার-ইনসারজেন্সি ইউনিট – ভিক্টর ফোর্স (Victor Force)-কে নামানো হয়েছে। তারা জঙ্গিদের পালানোর সমস্ত সম্ভাব্য পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছে। অন্ধকারে গাছের আড়ালে যাতে জঙ্গিরা লুকিয়ে থাকতে না পারে, তার জন্য উজ্জ্বল লাইট জ্বালানো হচ্ছে। শনিবার সন্ধের মধ্যে আশেপাশের চারটি গ্রাম ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে।
এই অভিযান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ সোপিয়ান জঙ্গিদের ট্রানজিট বা পালানোর প হিসাবে আগেও ব্যবহার করা হয়েছে। এই করিডর দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে মধ্য কাশ্মীর ও পীর পাঞ্জাল রেঞ্জকে যুক্ত করে।