Assam Flood: ৫০ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্থ ৮ লক্ষের বেশি মানুষ, কেন প্রতি বছরই ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে অসম?

Assam Flood 2026 Causes: প্রতি বছরই বর্ষার সময় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় অসমে। এ বছরও ছবিটা বদলায়নি। টানা ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় অসমের ১৬টি জেলার ৮ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কার্বি আংলং, গোলাঘাট, চরাইদেও, কামরূপ, শিবসাগর, যোরহাট, ডিব্রুগড়, নগাঁও, ধেমাজি, হোজাই-সহ ১১টি জেলা।

Assam Flood: ৫০ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্থ ৮ লক্ষের বেশি মানুষ, কেন প্রতি বছরই ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে অসম?
অসমে বন্যা পরিস্থিতিImage Credit source: PTI

Jul 23, 2026 | 11:23 AM

গুয়াহাটি: অসমে ভয়াবহ বন্যা (Assam Flood) পরিস্থিতি। দিন দিন সেই পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চার শিশু-সহ অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ASDMA)-র তরফে এমনটাই জানানো হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, শিবসাগর ও জোরহাট জেলায় ৩ জন, চরাইদেও জেলায় ২ জন এবং ধেমাজি ও কার্বি আংলং জেলায় একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। সবমিলিয়ে বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

অসমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৮ লক্ষের বেশি মানুষ 

প্রতি বছরই বর্ষার সময় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় অসমে। এ বছরও ছবিটা বদলায়নি। টানা ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় অসমের ১৬টি জেলার ৮ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কার্বি আংলং, গোলাঘাট, চরাইদেও, কামরূপ, শিবসাগর, যোরহাট, ডিব্রুগড়, নগাঁও, ধেমাজি, হোজাই-সহ ১১টি জেলা। রাজ্যের ৯৩৯টি গ্রাম এখন জলের তলায় রয়েছে। বিপদসীমার উপর বইছে একাধিক নদী। টানা বৃষ্টির জেরে ব্রহ্মপুত্র এবং তার একাধিক উপনদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। ত্রাণ শিবিরে ৩ লক্ষের বেশি মানুষ রয়েছেন । জেলা প্রশাসনের তৈরি ৪৮৭টি ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে বর্তমানে ৩ লক্ষ ১৩ হাজারেরও বেশি বন্যাদুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

চলছে উদ্ধারকাজ

বন্যা কবলিত এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ (SDRF), দমকল, পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স, ভারতীয় বায়ুসেনা এবং ডিডিআরএফ (DDRF)-এর দল মোতায়েন রয়েছে।

শুধু বৃষ্টি নয়, বন্যার নেপথ্যে কী কী কারণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র অতিবৃষ্টি অসমের বন্যার একমাত্র কারণ নয়। পিছনে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদিবাহিত পলি।

ব্রহ্মপুত্র নদে হিমালয়, অরুণাচল প্রদেশ, ভুটান এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শত শত উপনদী এসে মিশেছে। বর্ষাকালে এই সব এলাকায় একসঙ্গে প্রবল বৃষ্টি হলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ জল ব্রহ্মপুত্রে এসে পড়ে। ফলে নদীর ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে জল দ্রুত উপচে পড়ে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্ষার চরিত্র বদলে যাচ্ছে। আগে কয়েক দিন ধরে মাঝারি বৃষ্টি হলেও এখন অল্প সময়ে অত্যন্ত বেশি বৃষ্টি বা মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনা বাড়ছে।

পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ায় বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারছে। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বায়ুমণ্ডল প্রায় ৭ শতাংশ বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে। ফলে অল্প সময়ে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

পলির কারণে অগভীর হয়ে যাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র। অসমে বারবার বন্যার অন্যতম বড় কারণ হল নদীর তলদেশে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ পলি বা সিল্ট। বিশ্বের অন্যতম বেশি পলি বহনকারী নদ ব্রহ্মপুত্র। প্রতি বছর হিমালয়ের ভূমিধস, ক্ষয় এবং বৃষ্টির ফলে প্রচুর বালি, নুড়ি ও পলি নদীতে এসে জমা হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যায় এবং নদীর জল ধারণক্ষমতা কমে যায়। তাই বর্ষায় সামান্য অতিরিক্ত জল এলেই নদী উপচে বন্যা দেখা দেয়।

Follow Us