
গুয়াহাটি: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) চালু হয়নি, তার আগেই চূড়ান্ত কড়াকড়ি। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে রাজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ হবে বহুগামিতা (Polygamy)। তবে বিল পাশ হয়ে আইনে পরিণত হওয়ার আগেই বহুগামিতার অভিযোগে এক পুলিশ অফিসারকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী!
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) শনিবার এক পুলিশ অফিসারকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেন। জানা গিয়েছে, সরকারি কর্মসূচির অধীনে জনগণের ক্ষোভ-অভিযোগ শুনছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত। সেখানেই এক মহিলা এসে অভিযোগ করেন যে তাঁর স্বামী, যিনি অসম পুলিশে কর্তব্যরত, তিনি অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেছেন এবং এখন তাঁকে ডিভোর্স দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
ওই মহিলার অভিযোগ শুনেই মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “অ্যারেস্ট করুন। আজ রাতের মধ্যেই ওঁকে ধরে নিয়ে আসুন“। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে আইন ভঙ্গ করা হলে, তা বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে যদি সরকারি কর্মীরা আইন ভাঙেন, তবে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে।
অসম সরকার বহুগামিতা বন্ধ করতে তৎপর হয়েছে। আইনি, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে একাধিক কঠোর শাস্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অসম বাজেট অধিবেশনেই রাজ্য সরকার বহুগামিতা রুখতে একাধিক প্রস্তাবনা অনেছিল। জানানো হয়েছিল, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি বহুগামিতা বা পলিগ্যামির অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তিনি রাজ্যের সমস্ত সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার অধিকার খোয়াবেন। তাঁকে কোনও সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে না।
অসম সার্ভিস (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড অ্যাপিল) রুলস ১৯৬৪-এও সংশোধন আনার প্রস্তাবনা আনা হয়েছিল। এই আইনের অধীনে যদি কোনও সরকারি কর্মী বহুগামিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে তাঁকে চাকরি থেকে বিতাড়িত করা হবে। মহিলাদের অধিকার আরও মজবুত করা এবং লিঙ্গ ভিত্তিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
ইতিমধ্যেই অসম বহুগামিতা নিষিদ্ধ বিল ২০২৫-ও আনা হয়েছে। এই বিলে বহুগামিতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বহুগামিতা করতে গিয়ে ধরা পড়লে, সাত বছর পর্যন্ত সাজার কথা বলা হয়েছে।