
‘মশা মারতে কামান দাগা’র গল্প শুনেছি আমরা সকলেই। কিন্তু জুতো সরাতে জেসিবি ডাকার কথা শুনেছেন কোনওদিন? অবাক লাগলো না? কিন্তু এমন ঘটনাই ঘটছে অযোধ্যার রামমন্দিরে। গত এক মাস ধরে নাকি এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে কতৃপক্ষকে।
লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন রামমন্দিরে। পায়ে জুতো পরেই মন্দিরে আসছেন। মন্দিরের গেটের সামনে সেই জুতো খুলে প্রবেশ করছেন। এই অবধি বিষয়টা স্বাভাবিক। কিন্তু তারপরেই দেখা যাচ্ছে অন্য সমস্যা। বেশিরভাগ নাকি জুতো মন্দিরের গেটের সামনে ফেলে রেখেই চলে যাচ্ছেন। ফল সরূপ মন্দিরের সামনে জমে যাচ্ছে হাজার হাজার জোড়া জুতোর স্তুপ। যা এতটাই বেশি যে সেই স্তুপ সরাতে ময়দানে নামতে হচ্ছে কর্পোরেশনকে।
চটি, জুতো থেকে স্যান্ডেল পড়ে থাকছে সব কিছুই। সেই জুতোর পাহাড় এতই বড় যে জেসিবি করে সরিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে কর্পোরেশনকে। প্রতিদিন একাধিক জেসিবি শুধু এই কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে।
মন্দির থেকে ৪-৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে একটি ডাম্পিং ইয়ার্ড। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে পৌর কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জানায় প্রতিদিন জেসিবি করে হাজার হাজার জোড়া জুতো তোলা হয় ট্রলিতে। তারপর সেই ট্রলিতে করে জুতো নিয়ে যাওয়া হয় কয়েক কিলোমিটার দূরে ডাম্পিং ইয়ার্ড।
কর্ম কর্তারা জানান, সাধারণ ভক্তদের মন্দিরে প্রবেশের পথ হল রাম পথের দিকে অবস্থিত ১ নম্বর গেট। সেই গেট দিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে আধা কিলোমিটার হেঁটে তবে মন্দিরে পৌঁছতে হয়। এর পরে আবার আরও আধা কিলোমিটার হেঁটে অনেকেই মন্দির পরিদর্শন এবং প্রদক্ষিণ করেন। এদিকে ভিড়ের কারণে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় তার জন্য পৌর সংস্থার কর্মকর্তারা ৩ নম্বর ও অনান্য গেট দিয়ে ভক্তদের বার করে দেন। এবার যারা ১ নম্বর গেটের সামনে জুতো খুলেছিলেন তাঁদের আবার জুতো পরার জন্য ৫-৬ কিলোমিটার হেঁটে আসতে হবে। কেবল জুতোর জন্য অনেকেই এতটা পথ হাঁটতে রাজি নন। তাই মন্দিরের সামনেই জুতো ছেড়ে চলে যান।