India-Bangladesh: নজরে মোদী-তারেক বৈঠক, কী কী নিয়ে আলোচনা হতে পারে?

Bangladesh PM Tarique Rahman Likely to Visit India: তারেক রহমানের ভারত সফর হলে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠকের দিকে নজর থাকবে দুই দেশেরই। তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বদল এসেছে। একইসঙ্গে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকেও নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

India-Bangladesh: নজরে মোদী-তারেক বৈঠক, কী কী নিয়ে আলোচনা হতে পারে?
নরেন্দ্র মোদী- তারেক রহমানImage Credit source: PTI

| Edited By: অবন্তিকা প্রামাণিক

Aug 15, 2026 | 8:30 PM

নয়া দিল্লি : আগামী সপ্তাহেই ভারতে আসতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Bangladesh PM Tarique Rahman)। দিন কয়েক আগেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে গিয়ে তারেকের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi)। ওই বৈঠকে তারেককে ভারতে আসার আমন্ত্রণ করেছিলেন তিনি। এবার জানা গেল, ভারতে তারকের সফর প্রায় চূড়ান্ত। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই দিল্লি (Delhi) আসতে পারেন তিনি। সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লি (India-Bangladesh) ও ঢাকায় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সেক্ষেত্রে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

তারেকের সফরে নজরে থাকবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) সঙ্গে তাঁর বৈঠক। চলতি বছরে কয়েক মাস পরে ভারতে ব্রিকস সম্মেলন আয়োজিত হতে চলেছে। জানা গিয়েছে, সেই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য নয়া দিল্লির তরফে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা,সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলি আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। তবে সফরের নির্দিষ্ট সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

প্রথমবার মোদী-তারেক মুখোমুখি

তারেক রহমানের ভারত সফর হলে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠকের দিকে নজর থাকবে দুই দেশেরই। তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বদল এসেছে। একইসঙ্গে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকেও নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁকে বাংলাদেশের হাতে প্রত্যর্পণের দাবি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য আরও প্রকট হয়েছে।

তবে নতুন বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও কিছুটা বেড়েছে। গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খালিলুর রহমান নয়াদিল্লি এসে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। ১০ অগস্ট ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীও তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই দেশের সম্পর্ককে কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

জল, বাণিজ্য ও সীমান্ত…আলোচনায় আরও একাধিক বিষয়

সম্ভাব্য ভারত সফরে দীর্ঘদিনের একাধিক সমস্যা আলোচনায় আসতে পারে। বাণিজ্য, ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও পরিবহণ ব্যবস্থারও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তাই রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলে এই ক্ষেত্রগুলিতেও দ্রুত ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে জলবণ্টন। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা। তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই একাধিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ইস্যুতে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে।

তারেক রহমানের সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। নয়াদিল্লি ২১ ও ২২ অগস্ট সফরের প্রস্তাব দিয়েছে বলে একাধিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ঢাকার দিক থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহকে বেশি সুবিধাজনক মনে করা হচ্ছে। আবার কোনও রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহেই ভারতে আসতে পারেন তারেক রহমান।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us