Seven Family Members Killed: স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাওয়া নিয়ে বিবাদ, শ্বশুরবাড়ির ৭ জনকে ‘শেষ’ করে দিল ব্যক্তি

Cab Driver Accused of Killing Seven Family Members: প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সুনীতার বাপের বাড়ি যাওয়া এবং মা ও ভাইদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিবাদ হত। তার জেরেই তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, “আত্মীয়স্বজনরা একাধিকবার দু’জনের মধ্যে মিটমাট করানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিবাদ থামেনি। দাম্পত্য সমস্যায় স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের হস্তক্ষেপ একেবারেই মেনে নিতে পারত না ইন্দুশেখর।”

Seven Family Members Killed: স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাওয়া নিয়ে বিবাদ, শ্বশুরবাড়ির ৭ জনকে শেষ করে দিল ব্যক্তি
ধৃত ক্যাব চালক (বাঁদিকে), ধৃতের পরিজনরা (ডানদিকে) Image Credit source: TV9 Kannada

Nov 06, 2026 | 7:57 PM

বেঙ্গালুরু: নৃশংস। স্ত্রী, শাশুড়ি-সহ শ্বশুরবাড়ির ৭ জনকে খুন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে সাত বছরের এক শিশুও। খুনের পর দেহগুলিও বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয় অভিযুক্ত। ঘটনাটি কর্নাটকের বেঙ্গালুরুর। গত ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একের পর এক এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। শুক্রবার ৫২ বছর বয়সি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযুক্তের নাম এস ইন্দুশেখর। পেশায় ক্যাব চালক। প্রায় দুই দশক আগে সুনীতার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। পুলিশের সন্দেহ, গত ১৬ অক্টোবর থেকে এই হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। স্ত্রীর ঘনঘন বাপের বাড়ি যাওয়া নিয়েই দাম্পত্য কলহের সূত্রপাত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সুনীতার বাপের বাড়ি একই শহরে।

স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাওয়া নিয়েই বিবাদ-

অভিযোগ, সুনীতা ছাড়াও তাঁর মা রূপাবতী, সুনীতার দুই ভাই শিবকুমার ও শঙ্কর, তাঁদের দুই স্ত্রী দিব্যা ও নলিনী এবং শিবকুমারের সাত বছরের ছেলে পুনীতকে খুন করেছে ইন্দুশেখর। এই ঘটনায় অভিযুক্তের ১৭ বছরের মেয়ের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করছে পুলিশ। রাজাজিনগরের কাছে একটি বাড়ির ছাদে ভাড়া নেওয়া এক কামরার ঘরেই এই হত্যাকাণ্ডগুলি ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চিক্কাবল্লাপুর জেলার নন্দী হিলসের কাছে পুনীতের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাকি দেহগুলির সন্ধানে তল্লাশি চলছে।

বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার সীমান্ত কুমার সিং বলেন, “অভিযুক্তের দাবি, এক এক করে প্রত্যেককে নিজের বাড়িতে ডেকে এনে খুন করেছে সে। তার পর দেহগুলি বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দিয়েছে। তার এই বয়ান যাচাই করা হচ্ছে। অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও ছ’টি দেহের খোঁজ মেলেনি।”

ইন্দুশেখর ‘তানা বরদারি’ নামে একটি কন্নড়-ইংরেজি মাসিক ট্যাবলয়েড প্রকাশ করত। পাশাপাশি স্থানীয় একটি ইউটিউব নিউজ চ্যানেলও চালাত সে। ২০২৬ সালের অগস্ট মাসের ওই পত্রিকার সংস্করণে তাকে সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়্গে সাংবাদিকদের বলেন, “এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের দাবি, স্ত্রীর পরিবারের লোকজন তাকে অপমান করত। যে ব্যক্তি এই কাজ করেছে, তার মানসিকতা যে বিকৃত, তা স্পষ্ট। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দেহগুলি কোথায় ফেলা হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য দিয়েছে অভিযুক্ত।”

উত্তর বেঙ্গালুরুর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বাবাসাব নেমাগৌড় জানিয়েছেন, তিনজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশকে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। পুলিশের অনুমান, খুনের জন্য শিলনোড়া ব্যবহার করেছিল ইন্দুশেখর। দেহগুলি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল একটি গাড়ি। ইতিমধ্যেই গাড়ি ও শিলনোড়া বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

নিখোঁজের অভিযোগ থেকেই সামনে আসে ঘটনা-

বৃহস্পতিবার নলিনীর মা তাঁর মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। শ্রীরামপুরা থানায় দায়ের হওয়া সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরপর সন্দেহের তালিকায় উঠে আসে ইন্দুশেখরের নাম। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রথমে স্ত্রী সুনীতাকে খুন করে ইন্দুশেখর। তার পর একটি কাপড়ে দেহ মুড়ে নন্দী হিলস এলাকায় নিয়ে গিয়ে ফেলে আসে বলে অভিযোগ। প্রতিবেশীদের সে জানিয়েছিল, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছেন সুনীতা।

এর পর সুনীতার দুই ভাই শিবকুমার ও শঙ্করকে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানায় অভিযুক্ত। তাঁরা বাড়িতে পৌঁছনোর পরই তাঁদের খুন করা হয় বলে পুলিশের সন্দেহ। এরপর পরিবারের বাকি সদস্যদেরও খুন করা হয় বলে অভিযোগ।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সুনীতার বাপের বাড়ি যাওয়া এবং মা ও ভাইদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিবাদ হত। তার জেরেই তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, “আত্মীয়স্বজনরা একাধিকবার দু’জনের মধ্যে মিটমাট করানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিবাদ থামেনি। দাম্পত্য সমস্যায় স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের হস্তক্ষেপ একেবারেই মেনে নিতে পারত না ইন্দুশেখর।”

দম্পতির মেয়েকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। ওই তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, “এই ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাইছি না। আপাতত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এই মামলায় তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us