
নয়া দিল্লি: যুদ্ধ থামতেই খুলেছে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। এলপিজি সঙ্কটও কমছে। এবার এলপিজি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। লক্ষ লক্ষ এলপিজি(LPG) গ্রাহক এই ঘোষণার অপেক্ষা করছিলেন। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বাণিজ্যিক এলপিজি (Commercial LPG Supply) সরবরাহের উপরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হল।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে এলপিজির উৎপাদন বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায়, বিদেশ থেকে এলপিজি আমদানি বাড়তেই কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের উপরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হল। ইরান যুদ্ধের আগে যে সরবরাহ ছিল এলপিজির, তা-ই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এতে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, যেখানে এলপিজি সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়, সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের সুবিধা হবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলপিজি গ্রাহকদেরও সুবিধা হবে এই সিদ্ধান্তে। এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে, খাদ্যপণ্যের যে দাম বেড়েছিল, তাও কমবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
শুধু বাণিজ্যিক ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলপিজি সরবরাহ নয়, ইরান-আমেরিকার সঙ্কট কাটতেই বাল্ক এলপিজি সরবরাহও কিছুটা স্বাভাবিক করা হয়েছে। যুদ্ধের আগে বাল্ক সরবরাহ যা ছিল, তা ৫০ শতাংশ স্বাভাবিক করা হল।
এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও, পিএনজি-তে এখনও ছাড় দেওয়া হয়নি সরকারের তরফে। পিএনজির সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, এখনই কমার্শিয়াল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রাহকদের জন্য পিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়নি।
সাধারণ জনগণ বা গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য এলপিজি (LPG) সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিতে সরকার ESMA (Essential Commodities Act) প্রয়োগ করেছিল। নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে C3 ও C4 হাইড্রোকার্বন স্ট্রিম এলপিজি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করতে হবে।
উল্লেখ্য, প্রোপেন ও প্রোপিলিনকে C3 রাসায়নিক বলা হয় এবং C4 যৌগের মধ্যে রয়েছে বিউটেন, বিউটিন ও বিউটাডিন।
এর ফলে এই কাঁচামালগুলি পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের পরিবর্তে এলপিজি উৎপাদনের দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এতেরিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মতো সংস্থাগুলির উপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল। ফলে ওই সংস্থাগুলিকে তাদের পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন কমাতে হয়।
তবে এখন সরকার এই বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে C3-C4 স্ট্রিম আবার পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন এবং অন্যান্য ডাউনস্ট্রিম শিল্পে ব্যবহার করা যাবে। তবে এর জন্য একটি শর্ত রাখা হয়েছে- দেশে প্রতিদিন ৪০,০০০ টনের বেশি এলপিজি উৎপাদন বজায় রাখতে হবে।