বড় নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে গেল! সীমান্তে অভিযান চালাতেই ৫০ কোটি টাকার মাদক-অস্ত্র উদ্ধার

India-Pakistan Border: আইজি ওম প্রকাশ বলেন, স্বাধীনতা দিবসের আগে এই উদ্ধার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, সময়মতো এই অভিযান না হলে বড় ধরনের সন্ত্রাসবাদী বা অপরাধমূলক ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যেত না। পুলিশের তৎপরতায় সম্ভাব্য একটি বড়সড় আন্তঃসীমান্ত ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বড় নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে গেল! সীমান্তে অভিযান চালাতেই ৫০ কোটি টাকার মাদক-অস্ত্র উদ্ধার
উদ্ধার হওয়া মাদক ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশ আধিকারিকরা।Image Credit source: TV9 বাংলা

| Edited By: ঈপ্সা চ্যাটার্জী

Aug 02, 2026 | 3:21 PM

জয়পুর: স্বাধীনতা দিবসের আগে বড়সড় সাফল্য। ভেস্তে গেল নাশকতার বড়সড় পরিকল্পনা। রাজস্থানের বিকানির থেকে উদ্ধার হল বিপুল অস্ত্রশস্ত্র। সঙ্গে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ মাদক, আন্তর্জাতিক বাজারে এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

জানা গিয়েছে, রাজস্থানের বিকানির জেলার খাজুওয়ালা সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তান-সমর্থিত বলে সন্দেহজনক একটি আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান চক্র ধরে পুলিশ। নাশকতার বড়সড় পরিকল্পনা ভেস্তে দেয় বিকানের পুলিশ। যৌথ অভিযানে প্রায় ১০ কেজি হেরোইন, ১১টি স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২২টি ম্যাগাজিন এবং ১০০-রও বেশি গুলি উদ্ধার হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্ধার হওয়া হেরোইনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিকানের রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) ওম প্রকাশ জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারির বড়সড় অভিযানের পর এটি সীমান্ত এলাকায় দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তাঁর দাবি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, জেলা পুলিশের বিশেষ দল, স্থানীয় পুলিশ এবং সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সমন্বিত তৎপরতার ফলেই এই চোরাচালান রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তাদের নিয়মিত পরিদর্শনও অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে বিকানির জেলা স্পেশাল টিম (ডিএসটি), সাইবার সেল এবং খাজুওয়ালা থানার যৌথ দল অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, পাকিস্তান থেকে ড্রোনের মাধ্যমে ভারতীয় ভূখণ্ডে এই মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান পাঠানো হয়েছিল।

বিকানিরের পুলিশ সুপার মৃদুল কচ্ছাওয়ার নেতৃত্বে অভিযানে যোধপুরের বাসিন্দা বিরেন্দ্র সিং নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি ওই চালান সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, পাকিস্তানের চোরাচালানকারীরা ড্রোন ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে মাদক ও অস্ত্র পাঠিয়েছিল। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ চক্রের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আইজি ওম প্রকাশ বলেন, স্বাধীনতা দিবসের আগে এই উদ্ধার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, সময়মতো এই অভিযান না হলে বড় ধরনের সন্ত্রাসবাদী বা অপরাধমূলক ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যেত না। পুলিশের তৎপরতায় সম্ভাব্য একটি বড়সড় আন্তঃসীমান্ত ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এই অভিযানের সাফল্যের জন্য এএসআই দীপক যাদব, শ্রী রাম এবং হেড কনস্টেবল বাসুদেব চরণের গোয়েন্দা তথ্য ও সতর্কতাকে কৃতিত্ব দিয়েছে পুলিশ। তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতেই এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আগামিদিনে আরও গ্রেফতার এবং এই আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান চক্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে তদন্তকারীদের আশা।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us