
মুম্বই: গুচ্ছ গুচ্ছ চুল উঠছে। রাতারাতি টাক পড়ে যাচ্ছে সবার। একজন, দুজন নয়, এভাবে গ্রামের পর গ্রামে একই চিত্র। গ্রামের পুরুষদের হঠাৎ টাক পড়ে যাচ্ছে। ১৮ টি গ্রাম মিলিয়ে প্রায় ২৭৫ জনের হঠাৎ টাক পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই হইচই পড়ে গিয়েছে।
মহারাষ্ট্রের বুলধানা জেলায় গ্রামের পর গ্রামে টাক পড়ার ‘রোগ’ ছড়াতেই আতঙ্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে পুরুষদেরই কেন টাক পড়ছে, তা নিয়েও ধন্দ তৈরি হয়েছে। হঠাৎ এমন টাক পড়ার পিছনে কোনও যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। টিভি৯ বাংলা এই খবরের সত্যতা যাচাই করেনি।
তবে টাক আতঙ্কের মাঝে এক অদ্ভুত যুক্তি খাড়া করেছেন পদ্মশ্রী প্রাপক বিশিষ্ট চিকিৎসক হিম্মাত্রেয় বাওয়াসকার। তিনি বলেছেন যে পঞ্জাব ও হরিয়ানাই এই টাক পড়ার জন্য দায়ী। সেখান থেকে আমদানি করা গমে অতিরিক্ত সেলেনিয়ামের উপস্থিতির কারণেই সম্ভবত সকলের টাক পড়ে যাচ্ছে।
তবে পদ্ম পুরস্কার প্রাপকের এই দাবি মানতে নারাজ কৃষকরা। কৃষি বিজ্ঞানীরাও এই তত্ত্ব মানতে নারাজ। পঞ্জাব বা হরিয়ানার গমে অতিরিক্ত সেলেনিয়াম পাওয়া যায়নি। তাই এই দাবি ভিত্তিহীন।
অর্থনীতিবিদ প্রফেসর রঞ্জিৎ সিং গুমান বলেন, “এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা। পঞ্জাবের নাম খারাপ করার জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দেশের কৃষিক্ষেত্রে পঞ্জাব দশকের পর দশক ধরে বিশেষ অবদান রেখেছে এবং এখনও রেখে চলেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সকলে পঞ্জাবের গম খাচ্ছে, কখনও তো এমন কিছু হয়নি। এই দাবির সপক্ষে কোনও বৈজ্ঞানিক গবেষণাও নেই।”
কৃষক নেতা সর্বণ সিং পান্ধেরও বলেন, “এই দাবির পক্ষে কোনও যুক্তি-প্রমাণ আছে? পঞ্জাবকে অনৈতিকভাবে নিশানা করা হচ্ছে। যদি গম চুল পড়ার কারণ হত, তাহলে আমরা যারা সবার প্রথম এই গম খেয়েছি প্রতিদিন, তাদের উপরে কেন প্রভাব পড়ল না?”