
নয়া দিল্লি: দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে আগামী ১৭ অগস্ট দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ভারতীয় মজদুর সংঘ (BMS)। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ (Kendriya Karya Samithi) দেশের সমস্ত শাখাকে এই কর্মসূচিতে সামিল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, একাধিক দাবি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ তৈরি করতে বিক্ষোভ, মিছিল ও ধর্নার ডাক দেওয়া হয়েছে।
বিএমএস (BMS)-এর তরফে জানানো হয়েছে, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত কেকেএস (KKS)-এর বৈঠকে দেশের ২৮টি রাজ্য ইউনিট এবং ৪২টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফেডারেশনকে এই কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা সদরগুলিতে বড় আকারে বিক্ষোভ, মিছিল এবং ধর্না কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং শ্রমমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হবে।
দীর্ঘদিনের একাধিক দাবি নিয়ে সরব হয়েছে বিএমএস। সংগঠনের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—
BMS-এর দাবি, আইআর কোড (IR Code) এবং OSH&WC Code-এ একাধিক শ্রমিক-বিরোধী বিধান রয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির সঙ্গে আলোচনা করে ওই শ্রমবিধিগুলিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠন।
অঙ্গনওয়াড়ি-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মীদের নিয়েও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বিএমএস। সংগঠনের বক্তব্য, কোনও সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের মেয়াদ সাধারণত ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। কিন্তু ১৯৭৫ সালের অক্টোবর থেকে অঙ্গনওয়াড়ি প্রকল্প চালু রয়েছে, ফলে এটিকে এখনও শুধুমাত্র একটি ‘স্কিম’ হিসেবে বিবেচনা করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠন।
বিএমএস-এর অভিযোগ, সরকার এই কর্মীদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিষেবা নিলেও তাঁদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে এখনও প্রস্তুত নয়। সংগঠনের দাবি, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা দিনে ১২ ঘণ্টারও বেশি কাজ করেন। অথচ শ্রমবিধিতেও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিএমএস-এর দাবি, দেশের ১ কোটিরও বেশি স্কিম ওয়ার্কার-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির সঙ্গে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। সংগঠনের বক্তব্য, এই কর্মীদের অধিকাংশই দক্ষ কর্মী এবং কর্মজগতের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁদের জন্য নতুন নীতি তৈরি করা দরকার।
ভারতের অসংগঠিত ক্ষেত্রে এত বড় কর্মী বাহিনী রয়েছে বলে দাবি করে বিএমএস এই কর্মীদের জন্য ভারতের উপযোগী একটি পৃথক নীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। বিএমএস (BMS)-এর সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র কুমার পাণ্ডে-র নামে জারি করা এই বিবৃতিতে ১৭ অগস্টের দেশব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে কেন্দ্রের কাছে দীর্ঘদিনের শ্রমিক সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে।