
নয়া দিল্লি: জি২০-র পর আবারও বড় কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের। আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও একবার কোণঠাসা পাকিস্তান। দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের (BRICS Summit) যৌথ ঘোষণাপত্রে জায়গা পেল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা (Pahalgam Attack)। যার তীব্র নিন্দা করল ব্রিকস-এর সদস্য দেশগুলি। ঘোষণাপত্রে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জ়িরো টলারেন্স নীতির কথা বলেছে ভারত। তাতে সমর্থন জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন, শি জিনপিংও। আর তাতেই চাপ বাড়ল পাকিস্তানের (Pakistan)।
ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে,”২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরে হওয়া জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করছি। ওই হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আরও অনেকে আহত হয়েছিলেন।” উল্লেখ্যযোগ্যভাবে এই ঘোষণাপত্রে সই রয়েছে পুতিন ও জিনপিংয়েরও। পহেলগাঁও হামলার পর পাল্টা অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালায় ভারত। সেইসময় পাকিস্তানকে প্রত্যক্ষভাবে মদত দিয়েছিল চিন। অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানকে প্রত্যক্ষভাবে মদত দিয়েছিল চিন। আর আজ এক বছর পর নয়া দিল্লির মাটিতে পা দিয়ে শি জিনপিং-কে পহেলগাঁও হামলার নিন্দা করতে হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা ভারতের কূটনৈতিক জয়। আর পাকিস্তানের জন্য অশনি সংকেত।
ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, উদ্দেশ্য যা-ই হোক, যে জায়গাতেই ঘটুক কিংবা যারাই ঘটাক, সমস্ত ধরনের সন্ত্রাসবাদই অপরাধমূলক এবং কোনওভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের যাতায়াত, সন্ত্রাসবাদে অর্থসাহায্য এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার মতো বিষয়গুলিও রয়েছে।
ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদকে কোনও ধর্ম, সভ্যতা বা জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। জঙ্গি কার্যকলাপে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি যারা তাঁদের সমর্থন করে, তাঁদেরও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
ঘোষণা পত্রে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দ্বিচারিতার নীতি প্রত্যাখ্যান করার কথা বলা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবিলার প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলির। তবে সেই লড়াই অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন মেনে করতে হবে।