
নয়া দিল্লি: লোকসভা নির্বাচনের আগেই কেন্দ্রের মাস্টারস্ট্রোক। কার্যকর করা হল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ। দেশজুড়ে সিএএ নিয়ে ইতিমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিলতে শুরু করেছে। বড় অংশের মানুষই যেখানে সিএএ-র সমর্থন করছেন, সেখানেই অসমে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। কেরল, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছেন, তাঁরা রাজ্যে সিএএ চালু হতে দেবেন না। তবে সিএএ কী সত্যিই খারাপ? কেন এই আইন আনল কেন্দ্রীয় সরকার? কী সুবিধা হবে এই আইনে?
২০১৯ সালেই সংসদে পাশ হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন। তবে কোভিডের কারণে তা কার্যকর করা যায়নি সেই সময়ে। দীর্ঘদিন ধরেই এই আইন কার্যকর হওয়া নিয়ে জল্পনা থাকলেও, অবশেষে চলতি সপ্তাহের সোমবার, ১১ মার্চ কার্যকর হয়েছে সিএএ। এই আইন চালু হওয়ায় কী সুবিধা হবে?
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে যারা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে যারা নির্যাতনের শিকার হয়ে এ দেশে চলে এসেছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তিন দেশ থেকে আগত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, পার্সি, খ্রিস্টান ও জৈন সম্প্রদায়ের নাগরিকদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
এই নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য তাদের এ দেশে প্রবেশের তারিখ ও ছয় ধরনের নথি দেখাতে হবে।
১. সিএএ কার্যকর হওয়ায় নাগরিকত্ব দেওয়া ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আইনি বাধা দূর হবে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, যারা দশকের পর দশক ধরে রিফিউজির তকমা নিয়ে বাঁচছেন, তাদের সম্মানের জীবন দেওয়া হবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মাধ্যমে।
২. সিএএ-তে সংখ্যালঘু অনুপ্রবেশকারীদের সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও সামাজিক পরিচয় ও অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
৩. একইসঙ্গে তাদের আর্থিক, বাণিজ্যিক ও সম্পত্তি ক্রয়ের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
৪. কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে কোনও ভারতীয় নাগরিকের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না। তা তিনি যে কোনও ধর্মেরই হোন না কেন।
৫. এই আইন কেবলমাত্র তাদের জন্য আনা হয়েছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং ভারত ছাড়া বিশ্বের কোনও দেশ তাদের আশ্রয় দেয়নি।