
নয়া দিল্লি: পরম আত্মীয় বা নিজের রক্তের সম্পর্কও শত্রুতে পরিণত হয়, যখন সম্পত্তির প্রসঙ্গ আসে। বাবার সম্পত্তিতে কার, কতটা অধিকার, এই নিয়ে অনেকের পরিবারেই অশান্তি লেগে থাকে। বিশেষ করে বাবার সম্পত্তির উপর ছেলের অধিকার সম্পর্কে সকলেই অবগত থাকলেও, যখন কন্যার অধিকারের প্রসঙ্গ আসে, তখন নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। যদি কারোর বাবা হঠাৎ মারা যান এবং তাঁর সম্পত্তির কোনও উইল না থাকে, তাহলে কি বিবাহিত কন্যাও সেই সম্পত্তিতে অংশ বা ভাগ পাবেন? যদি পান, তাহলে তিনি কীভাবে সম্পত্তিতে দাবি করতে পারেন? হিন্দু উত্তরাধিকার আইন কী বলে?
১৯৫৬ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, সম্পত্তি বণ্টনে পুত্রসন্তানদের অগ্রাধিকার ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ২০০৫ সালে এটি সংশোধন করে একটি নতুন সংশোধনী আইন নিয়ে আসে। এই আইন অনুসারে বাবার সম্পত্তিতে কন্যারও পুত্রের সমান অধিকার রয়েছে। সেক্ষেত্রে কন্যা বিবাহিত কি না, তা গুরুত্ব রাখে না। বিবাহিত হলেও তিনি বাবার সম্পত্তিতে আইনত তাঁর অংশ দাবি করতে পারেন। ২০২০ সালে, সুপ্রিম কোর্টও একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এটি স্পষ্ট করে দেয় যে ২০০৫ সালে আইনটি সংশোধিত হওয়ার পর থেকে, বাবা জীবিত থাকুন বা না থাকুন, কন্যারা জন্ম থেকেই বাবার সম্পত্তিতে অধিকার পাবে।
যদি কোনও ব্যক্তি তাঁর অর্জিত বা পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টনের জন্য কোনও উইল না করে মারা যান, তবে আইনত তা উইল বিহীন মৃত্যু গণ্য করা হয়। এক্ষেত্রে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, সম্পত্তিতে প্রথম শ্রেণীর উত্তরাধিকারীদের আগে ভাগ বা অধিকার থাকে। এবার প্রশ্ন হল, প্রথম শ্রেণীর উত্তরাধিকারী কারা?
মৃতের স্ত্রী, পুত্র ও কন্যারাই প্রধান দাবিদার হন।
সমান বন্টন:
যদি বাবা কোনও উইল না করেন, তবে সম্পত্তি প্রথম উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সমানভাবে বন্টন করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তির স্ত্রী, একজন পুত্র এবং একজন কন্যা থাকে, তবে সম্পত্তিকে তিনটি সমান ভাগে ভাগ করে তিনজনকেই দেওয়া উচিত। একজন বিবাহিত কন্যাও, পুত্রের সমান অংশ পাবেন।
যদি ভাই বা পরিবারের সদস্যরা সম্পত্তি দিতে অস্বীকার করেন, তবে বিবাহিত কন্যা আইনত সম্পত্তি দাবি করতে পারেন।
আইনি বিবাহ প্রমাণপত্র: প্রথমে বাবার মৃত্যু শংসাপত্র সংগ্রহ করুন এবং তহসিলদারের কার্যালয় থেকে পরিবারের সকল সদস্যের নামসহ একটি আইনি সনদ বা ডকুমেন্ট জোগাড় করুন। এতে অবশ্যই মেয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সম্পত্তি বণ্টন মামলা: যদি পরিবারের সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পত্তি ভাগ করতে রাজি না হন, তবে কন্যা সন্তান দেওয়ানি আদালতে সম্পত্তি বণ্টন মামলা দায়ের করতে পারেন। আদালত উত্তরাধিকার পরীক্ষা করে কন্যা সন্তানকে তাঁর বৈধ অংশ দেবে।
বাবা নিজে যে সম্পত্তি অর্জন করেছেন, তার উপর তাঁর পূর্ণ অধিকার রয়েছে। যদি বাবা জীবিত থাকাকালীন তাঁর সম্পত্তি পুত্র বা অন্য কাউকে দিয়ে যান এবং একটি যথাযথ উইলে তা নথিভুক্ত করেন, তবে কন্যার সেই সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও অধিকার থাকবে না।
শুধুমাত্র যদি বাবা উইল না লিখে মারা যান, তবেই কন্যা সমান অংশ পাবে। কিন্তু যদি তা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি হয়, তবে কন্যা জন্ম থেকেই তাতে অংশ পাবে।