Delhi High Court-ECI: ‘আপনারা কি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন?’, SIR সংক্রান্ত মামলায় কমিশনকে প্রশ্ন হাইকোর্টের

Special Intensive Revision: অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR)-এর কাজে সরকারি, পুরসভার স্কুলগুলির শিক্ষকদের নিয়োগ করায় ক্লাসে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্কুলে পড়ানোর সময়ই প্রায় সমস্ত স্থায়ী শিক্ষককে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে পাঠানো হয়েছে।

Delhi High Court-ECI: আপনারা কি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন?, SIR সংক্রান্ত মামলায় কমিশনকে প্রশ্ন হাইকোর্টের
ফাইল চিত্র।Image Credit source: PTI

|

Jul 26, 2026 | 6:41 PM

নয়া দিল্লি: এসআইআর-(SIR)র কাজে শিক্ষকদের নিয়োগ করা হচ্ছে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও (BLO) এবং এনুমারেশন স্টাফ হিসাবে। এদিকে পড়াশোনায় ক্ষতি হচ্ছে। নির্বাচনের কাজে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা (PIL)। সেই মামলার শুনানিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব চাইল হাইকোর্ট।

বর্তমানে দিল্লিতে চলছে এসআইআর। সেখানেই সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বিএলও-র কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। শিক্ষকদের গণহারে এই কাজে নিয়োগ নিয়েই গত শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব চায়।

কী বলল হাইকোর্ট? 

বিচারপতি ডিকে উপাধ্য়ায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চের তরফে নির্বাচন কমিশনকে শর্ট এফিডেভিট জমা করতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে যে শিক্ষকদের বিএলও ও এনুমারেশন কর্মী হিসাবে কাজ করা কি বাধ্যতামূলক করতে পারে?

নির্বাচন কমিশনের তরফে উপস্থিত কাউন্সিল আদালতে জানান যে এসআইআর দেশজুড়ে চলা প্রক্রিয়া। সেখানে সরকারি স্কুল শিক্ষকদের ডিউটি বা নন-টিচিং আওয়ারে বা ছুটির দিনে এসআইআরের কাজ করতে হবে।  এর বদলে শিক্ষকরা ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সাহায্যও পান। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় মাত্র ১০ থেকে ১৪ শতাংশ শিক্ষকদেরই ডাকা হয়।  

কমিশনের তরফে বলা হয়, “যদি নয়জন শিক্ষকের জন্য আবেদন করা হয়, তবে স্কুলের তরফে মাত্র তিন-চারজন শিক্ষককেই পাঠায়। চার জন শিক্ষক এলেও আমাদের কোনও সমস্যা নেই। কমিশন এই সব বিষয়ে উদার মনোভাব দেখায়।”

যদি কমিশন স্পষ্ট করে দেয় যে এসআইআরের কাজে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় হবে। এই কাজ বাধ্যতামূলক নয়। তাহলে আদালত জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দেবে। হাইকোর্টের বেঞ্চ বলে, “এটা কি বাধ্যতামূলক বলতে পারবে? কেউ কোনও সাম্মানিক বা ক্ষতিপূরণে আগ্রহী নয়। এদের (শিক্ষক) বিশ্রামের প্রয়োজন। এই কাজ স্বেচ্ছামূলক হওয়া উচিত। সংবিধানের ৩২৪ ধারার আশ্রয় নিয়ে আপনারা কি যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন? আপনারা যদি ভলান্টিয়ার হিসাবে তাদের ডাকেন, তাহলে সেটা বিবৃতি দেন।”

কিছুটা সমালোচনা করেই হাইকোর্ট বলে যে শিক্ষকরা নির্বাচন কমিশনের কর্মী নয়। তবে কমিশনের নির্দেশ না মানলে যে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হতে পারে, এও উল্লেখ করে হাইকোর্ট। আগামী সোমবারের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে।

কী নিয়ে মামলা হয়েছিল?

মামলায় আবেদনকারীদের অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR)-এর কাজে সরকারি, পুরসভার স্কুলগুলির শিক্ষকদের নিয়োগ করায় ক্লাসে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্কুলে পড়ানোর সময়ই প্রায় সমস্ত স্থায়ী শিক্ষককে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে পাঠানো হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে অতিথি শিক্ষক বা অন্য বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করাতে হচ্ছে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষকদের এই ভাবে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে নিয়োগ করা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়, জাতীয় নির্বাচন কমিশন বনাম সেন্ট মেরিজ স্কুল-এর পরিপন্থী। পাশাপাশি এটি শিক্ষার অধিকার আইন (RTE), ২০০৯-এর ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ধারারও লঙ্ঘন করে। আবেদনকারীদের দাবি, নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে নিয়োগের জন্য প্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act)-এর ১৫৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক অশিক্ষক কর্মী (non-teaching staff) উপলব্ধ থাকা সত্ত্বেও, তাঁদের ব্যবহার করা হচ্ছে না।

আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে, স্কুলের মোট শিক্ষকের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের বেশি যেন নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে নিয়োগ না করা হয় এবং তাঁদের দায়িত্ব পাঠদানের সময়ের বাইরে নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি, এসআইআর-এর কাজে প্রথমে অশিক্ষক কর্মীদেরই কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।

Follow Us