
নয়া দিল্লি: আরও বিপাকে সুভাষ চন্দ্র। জ়ি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা তথা এসেল গ্রুপের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে বড়সড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। প্রায় ৯৮০ কোটি টাকার ঋণ সংক্রান্ত মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করল সিবিআই (CBI)।
সিবিআইয়ের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সুভাষ চন্দ্রের মোট সম্পত্তির হিসাব। ঋণ নেওয়ার সময় যে সম্পত্তির হিসাব দেখানো হয়েছিল, পরবর্তী দেউলিয়া প্রক্রিয়ায় সেই হিসাব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন সুভাষ চন্দ্র। এই বিষয়টিই এখন তদন্ত করে দেখবে সিবিআই।
সিবিআই-র এফআইআর অনুযায়ী, এলআইসি হাউসিং ফিন্যান্স লিমিটেড (LIC Housing Finance Limited)-র অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সুভাষ চন্দ্রের দেওয়া মোট সম্পত্তি সার্টিফিকেটের ভিত্তিতেই দুটি ঋণ অনুমোদন করা হয়েছিল। দুটি ঋণের মোট পরিমাণ প্রায় ৯৮০ কোটি টাকা। পরে সেই ঋণ খেলাপ হয়ে যায়। এলআইসি হাউসিং ফিন্যান্স লিমিটেড (LICHFL)-এর দাবি, সুদ ও অন্যান্য চার্জ-সহ তাদের ক্ষতির পরিমাণ ১,৩২২ কোটি টাকারও বেশি।
জানা গিয়েছে, প্রথম ঋণটি ছিল বসন্ত সাগর প্রপার্টিজ প্রাইভেট লিমিটেড (Vasant Sagar Properties Pvt Ltd) এবং তার সহ-ঋণগ্রহীতা প্যান ইন্ডিয়া ইনফ্রা প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড (Pan India Infra Projects Pvt Ltd)-এর জন্য। প্রায় ৫০০ কোটি টাকার এই ঋণ ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং আগের ঋণ নেওয়ার সুবিধা হিসাবে দেওয়া হয়েছিল। এই ঋণের জন্য ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দিয়েছিলেন সুভাষ চন্দ্র।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঋণ নেওয়ার সময় জমা দেওয়া সুভাষ চন্দ্রের মোট সম্পত্তির সার্টিফিকেটে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫৯,০০০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় ঋণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কনসালটেন্সি সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড (Digital Subscriber Management and Consultancy Services Pvt Ltd)-কে প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল। এর সহ-ঋণগ্রহীতা ছিল স্পিরিট ইনফ্রা পাওয়ার অ্যান্ড মাল্টি ভেনচারস প্রাইভেট লিমিটেড (Spirit Infra Power and Multi Ventures Pvt Ltd)। এখানেও গ্যারান্টর ছিলেন সুভাষ চন্দ্র।
এই ঋণের ক্ষেত্রে জমা দেওয়া আরেকটি মোট সম্পত্তির সার্টিফিকেটে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪০,৫৬২ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অর্থাৎ, দুটি ঋণ নেওয়ার সময়ই সুভাষ চন্দ্রের আর্থিক সামর্থ্য বিপুল বলে নথিতে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু পরে দুটি ঋণই খেলাপি হয়ে যায়।
এরপর শুরু হয় সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত দেউলিয়া সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া। আর সেখানেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এফআইআর অনুযায়ী, দেউলিয়া প্রক্রিয়ার সময় সুভাষ চন্দ্র আগের মোট সম্পত্তি সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা বিপুল সম্পত্তির হিসাবকে নিজের প্রকৃত সম্পত্তি হিসেবে স্বীকার করেননি। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালে তাঁর মোট সম্পত্তি ছিল মাত্র ৩১.৭৯ কোটি টাকা। এমনকী ২০১৭-১৮ সালেও তাঁর সম্পত্তি ৪০,০০০ কোটি টাকার বেশি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। এই হাজার হাজার কোটি টাকার ফারাকই এখন সিবিআই-এর তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সিবিআই তদন্ত করে খতিয়ে দেখছে যে ঋণ পাওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সুভাষ চন্দ্রের মোট সম্পত্তি বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল কি না। ওই নেট ওর্থ বা মোট সম্পত্তির সার্টিফিকেট কে তৈরি করেছিলেন, কীভাবে তা যাচাই করা হয়েছিল এবং ঋণ অনুমোদনের সময় সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা কোন ভিত্তিতে সেই তথ্য গ্রহণ করেছিলেন- সবই তদন্ত করে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রায় ৯৮০ কোটি টাকার ঋণ যে উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল, সেই কাজেই টাকা ব্যবহার হয়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনওভাবে অর্থ সরানো হয়েছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।