
নয়া দিল্লি: পাড়ার মোড়ের ওষুধের দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় ফার্মেসি- সব জায়গাতেই এবার বসবে সিসিটিভি? ফার্মেসি ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানে যাতে প্রেসক্রিপশন ড্রাগসই বিক্রি করা হয়, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এই নিয়ম আনতে চলেছে। ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫-এ সংশোধনের প্রস্তাব এনেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
গত ৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে খসড়া নির্দেশ ইস্যু করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে দেওয়া ওষুধ পাইকারি বিক্রি ছাড়া অন্যভাবে সরবরাহ বা বিক্রি করতে হলে, সেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান বা প্রতিষ্ঠানে CCTV নজরদারি ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক হবে। কমপক্ষে তিন মাসের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। এমনটাই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ড্রাগস কনসালটিভ কমিটি ও ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইসরি বোর্ডের সদস্যরা এই প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করেছেন। সরকারের বক্তব্য, এই পদক্ষেপে ওষুধের দোকানে প্রেসক্রিপশন মেডিসিনের বিনা অনুমতিতে বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ওষুধ বিক্রির নির্ভরযোগ্যতাও বাড়বে এই পদক্ষেপে।
ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫-র ৬৫ ধারায় সংশোধন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানে প্রেসক্রিপশন ভিত্তিক ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলকভাবে রাখতে হবে। সিসিটিভি এমনভাবে চালু রাখতে হবে, যাতে কোনও ওষুধ বিক্রি বা সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, তা পরে যাচাই করা যায়। পাশাপাশি, সিসিটিভি-র রেকর্ডিং অন্তত তিন মাস সংরক্ষণ করতে হবে। প্রস্তাবিত এই সিসিটিভি ব্যবস্থার নিয়ম থেকে পাইকারি ওষুধ বিক্রেতাদের বাদ রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ বিক্রি বা সরবরাহের একটি রেকর্ড তৈরি হবে। এর ফলে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠলে তা খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ওষুধের বিক্রির তথ্য যাচাই করার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি আরও একটি ব্যবস্থা বা উপায় হাতে পাবে।
এই প্রস্তাব এমন সময়ে এসেছে, যখন শিডিউল এইচ (Schedule H), এইচ১ (H1) এবং এক্স (X)-এর আওতাভুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। ড্রাগস রুল (Drugs Rules) অনুযায়ী, এই ওষুধগুলির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়। তবে প্রস্তাবিত CCTV-এর নিয়ম শুধু শিডিউল এইচ (Schedule H), এইচ১ (H1) এবং এক্স (X)-এর আওতাভুক্ত ওষুধের জন্য প্রযোজ্য হবে- এমনটা বলা হয়নি।
প্রেসক্রিপশন-ভিত্তিক ওষুধ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির নজরদারি বাড়ার মধ্যেই এই প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে কাশির ওষুধ ও সিরাপ নিয়ে সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া করার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
কিছু ওষুধের অপ্রয়োজনীয় বা ভুল ব্যবহার এবং যথাযথ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিক্রি বা সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সেই কারণেই সরকার নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের বিক্রি ও সরবরাহের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করছে।
এই বিষয়টি শিশুদের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিশুদের জন্য ওষুধ এবং ওষুধের মাত্রা তাদের বয়স ও শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। প্রস্তাবিত ব্যবস্থা শুধু কাশির সিরাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে বিক্রি হওয়া ওষুধের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
এই প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরামর্শ চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরামর্শ ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা শেষ হওয়ার পর খসড়াটি নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে। এরপর সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কার্যকর করা হবে কি না।