
নয়া দিল্লি: জনগণনার (Census 2027) কাজে এবার বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদেরও নিয়োগ করা যাবে। এই মর্মে ১৯৯০ সালের জনগণনা বিধি সংশোধন করল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরও জনগণনার কাজে নিয়োগ করতে পারবে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। শুক্রবার গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সংশোধনের কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিয়োগ নিয়ে আদালতে মামলা চলার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, শুক্রবার ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ মূলত জনগণনা বিধি, ১৯৯০ সংশোধন করে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।
আগের নিয়মে বলা ছিল, জনগণনার কাজে শিক্ষক, কেরানি, সরকারি আধিকারিক কিংবা অন্য কোনও ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারবে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন। এবার সেই নিয়ম আরও স্পষ্ট করে কোন কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মীদের এই কাজে নিয়োগ করা যাবে, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকারি সাহায্য না পাওয়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিয়োগ করা যাবে। এমনকী, কোনও সোসাইটি বা ট্রাস্ট পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও এই কাজের আওতায় আসবেন।
শুধু শিক্ষক নন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের কেরানি এবং আধিকারিকদেরও জনগণনার কাজে নিয়োগ করা যাবে। পাশাপাশি, স্থানীয় প্রশাসন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা,ব্যাঙ্ক, কোম্পানি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সোসাইটি এবং ট্রাস্টের কর্মীদেরও এই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন উপযুক্ত মনে করলে অন্য কোনও ব্যক্তিকেও জনগণনার কাজে নিয়োগ করতে পারবে।
বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিয়োগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিল হরিয়ানা প্রোগ্রেসিভ স্কুলস কনফারেন্স। মামলাকারীদের বক্তব্য ছিল, ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইন কিংবা তার অধীনে তৈরি বিধিতে বেসরকারি সাহায্যবিহীন স্কুলের শিক্ষকদের জনগণনার সুপারভাইজার হিসাবে নিয়োগ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়নি।
তাঁদের যুক্তি, জনগণনা আইনের ৪এ ধারায় স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিক ও কর্মীদের জনগণনার কাজে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সরকারি সাহায্য না পাওয়া বেসরকারি স্কুল কিংবা সেখানকার শিক্ষক-কর্মীরা স্থানীয় প্রশাসনের আওতায় পড়েন না।
গত ৮ অক্টোবর বিচারপতি হরপ্রীত সিং ব্রার হরিয়ানা সরকারের দু’টি নির্দেশিকার কার্যকারিতায় স্থগিতাদেশ দেন। ওই নির্দেশিকাগুলির মাধ্যমে জনগণনার কাজে কতজন শিক্ষক পাওয়া যাবে, সেই সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল। আগামী ২৯ এপ্রিল, ২০২৭ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। এই আইনি টানাপোড়েনের মধ্যেই জনগণনা বিধি সংশোধন করল কেন্দ্রীয় সরকার।
২০২৭ সালের জনগণনা হবে স্বাধীনতার পর দেশের অষ্টম জনগণনা। প্রথমে ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
এবার দু’টি পর্যায়ে জনগণনা করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে বাড়ির তালিকা তৈরি এবং আবাসন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে হবে জনসংখ্যা গণনা। এর জন্য ইতিমধ্যেই ১১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা বরাদ্দে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এটি এখনও পর্যন্ত দেশের বৃহত্তম জনগণনা হতে চলেছে বলে জানানো হয়েছে।
জনগণনার সময় প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে জনসংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি, আর্থিক অবস্থা, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বসবাসের জন্য স্থানান্তর এবং সন্তান জন্মদান সংক্রান্ত তথ্য।