
কলকাতা: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (EBP) বা E20 জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো হচ্ছে। সেই সমস্ত দাবির কড়া জবাব দিল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। PIB বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হল বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত তথ্য। ভেঙে দেওয়া হল সমস্ত ভুল ধারণা।
সবচেয়ে বড় গুজবটি ছিল— ২০২৩ সালের আগে তৈরি হওয়া গাড়িগুলি E20 পেট্রোলে চলবে না। এর ফলে ইঞ্জিনের ব্যাপক ক্ষতি হবে। কিন্তু সরকারি তথ্য সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে। দেশে গত সাড়ে তিন বছর ধরে E15+ এবং আড়াই বছর ধরে E20 জ্বালানি ব্যবহার হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের রাস্তায় ২০ কোটিরও বেশি টু-হুইলার এবং ৩ কোটির বেশি পেট্রোল চালিত গাড়ি এই জ্বালানিতে চলেছে। এখনও পর্যন্ত ইথানলের কারণে ব্যাপক হারে ইঞ্জিন খারাপ হওয়া বা যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা ক্রেতাদের তরফে অভিযোগ সামনে আসেনি।
সরকার জানিয়েছে, হঠাৎ করে নয়, দেশে ইথানল মিশ্রণের হার ২০১৩-১৪ সালের ১.৫৩% থেকে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২০২৫-২৬ সালে ২০ শতাংশে (E20) উন্নীত করা হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলিও এই জ্বালানির প্রতি পূর্ণ আস্থা জানিয়েছে। মারুতি সুজুকি জানিয়েছে, গত অর্থবর্ষে তাদের সার্ভিস করা প্রায় ২.৮৪ কোটি গাড়ির (যার মধ্যে ১.৫ কোটি পুরনো মডেল) মধ্যে ইথানল সংক্রান্ত কোনও ক্ষয় বা যন্ত্রাংশের আয়ু কমার সমস্যা দেখা যায়নি। টয়োটা, হিরো মোটোকর্প, হুন্ডাই, টিভিএস এবং বাজাজ অটোর মতো সংস্থাও স্পষ্ট করেছে যে, E20 জ্বালানির কারণে ইঞ্জিনের ক্ষতির দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
মাইলেজ কমার যে দাবি করা হচ্ছে, সংস্থাগুলির মতে তা অত্যন্ত সামান্য। মাত্র ৩-৩.৫ শতাংশ। একটি গাড়ির মাইলেজ মূলত নির্ভর করে টায়ারের চাপ, ট্রাফিক এবং গাড়ি চালানোর ধরনের উপর। উল্টে E20 জ্বালানির ফলে গাড়ির ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা বাড়ে, ইঞ্জিন আরও মসৃণভাবে চলে এবং দূষণও কমে। নিয়ম মেনে চলা গাড়িগুলির ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি তাদের ওয়ারেন্টিও বহাল রেখেছে। তাই ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে গ্রাহকদের অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।