
নয়া দিল্লি: আগুনের গ্রাসে দিল্লির আয়কর বিভাগের কার্যালয়। মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকেলে, আয়কর ভবনের তৃতীয় তলে এই আগুন লাগে। দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন দমকলকর্মীরা। অতিু দ্রুত গোটা ভবনটি খালি করে দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু, তাতেও বিপর্যয় এড়ানো যায়নি। আগুন লেগে ইনকাম ট্যাক্স অফিস ভবনের তৃতীয় তল সম্পূর্ণ ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। সেই ধোঁয়ার কবলে পড়ে, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ৪৬ বছর বয়স ওই কর্মী সুপারিনটেনডেন্ট পদে ছিলেন। তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছিলেন দমকলকর্মীরা। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে, চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
আয়কর বিভাগের এক কর্মী জানিয়েছেন, ভবনের তৃতীয় তলে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল। সেখান থেকে পরে, ভবনের অন্যান্য তলে ছড়িয়ে পড়েছিল আগুন। তবে ঠিক কী কারণে আগুন লাগল, তা এখনও জানা যায়নি। এই অগ্নিকাণ্ডে ভবনটির ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে, তাও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুপুর ৩টে নাগাদ তাদের কাছে আগুন লাগার খবর জানিয়ে ফোন এসেছিল। প্রাথমিকভাবে দশটির মতো দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। পরে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দমকলে মোট ২১টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে যায়। দমকল কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় মোট সাতজনকে উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর, আয়কর ভবনের বাসিন্দারা আগুন থেকে বাঁচতে ভবনের বিভিন্ন জানালার ধারে আশ্রয় নিয়েছিলেন। লম্বা মই লাগিয়ে তাদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসা হয়।
এদিনই দক্ষিণ দিল্লির এক আবাসিক ভবনেও দুটি গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন লাগে। সৌভাগ্যক্রমে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। শাহপুর জাট এলাকায় অবস্থিত এক আবাসিক ভবনে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ভোর ৫টা নাগাদই আগুন লেগেছিল। আগুন নেভানোর জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় দমকের তিনটি ইঞ্জিন।
মাত্র দুই দিন আগেই, রবিবার (১২ মে), দিল্লির বাওয়ানা এলাকার এক রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটেছিল। তা থেকে বড় মাপের অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই বিস্ফোরণ এবং পরবর্তী সময়ে আগুন লাগার কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।