
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত সপ্তাহে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল রাজধানী দিল্লির যন্তর-মন্তর। মন্ত্রীর পদত্যাগের পর CJP আপাতত সেই আন্দোলন স্থগিত রেখেছে। আর এবার সেই ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনল দিল্লি পুলিশ। কয়েকশো সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে ও ফেসিয়াল-রেকগনেশন (Facial Recognition) প্রযুক্তির মাধ্যমে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছে পুলিশ। জানিয়েছে, আন্দোলনের আড়ালে ওই দিনের তাণ্ডবে উপস্থিত ছিল অন্তত ২,৮৭৩ জন চিহ্নিত অপরাধী। যাদের আগে থেকেই পুলিশের নাম রয়েছে পুলিশের খাতায়।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চিহ্নিত দুষ্কৃতীদের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি এবং পকসো (POCSO) আইনের মতো অত্যন্ত গুরুতর ধারায় মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১০১ জন খুনের আসামি (যার মধ্যে ৪২ জনের বিরুদ্ধে একাধিক এবং ১২ জনের বিরুদ্ধে ১০টিরও বেশি মামলা রয়েছে) এবং ৬২ জন খুনের চেষ্টার মামলার অভিযুক্ত। চিহ্নিত এই অভিযুক্তদের মধ্যে ৬১ জন ধর্ষণের অভিযুক্ত (৮ জনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা) এবং ৬ জন পকসো আইনে অভিযুক্ত। এছাড়া ২৫ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি ২৮৪ জন ডাকাতি, ২২৯ জন বেআইনি অস্ত্র আইন এবং ১৯ জন অপহরণের মামলায় অভিযুক্ত বলে খবর।
গত ২০ এবং ২২ জুলাই সংসদ সংসদ চলো অভিযানের ডাক দেয় CJP। ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, নিরাপত্তা বলয় ভেঙে আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশকর্মীদের ওপর নির্বিচারে পাথর ও পেপার স্প্রে ছুড়ছে। টলস্টয় মার্গে একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং বাসের টায়ার পাংচার করে দেওয়া হয়। এমনকী গাড়ির ভেতর পুলিশকর্মী থাকা সত্ত্বেও একটি গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তা উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ঘটনায় প্রায় ২০০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। সিসিটিভিতে রক্তভেজা ইউনিফর্ম পরা একাধিক পুলিশকর্মী এবং সহকর্মীদের হাতে জখম মহিলা অফিসারদের উদ্ধারের ছবি ধরা পড়েছে। পাশাপাশি, পুলিশের বিরুদ্ধেও আন্দোলনকারীদের উপর দমন পীড়নের অভিযোগ উঠেছে। সব মিলিয়ে রণক্ষেত্র চেহারা নিয়েছিল দিল্লি।