
নয়া দিল্লি: দিল্লিতে (Delhi Swine Flu) বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু-এর (Swine Flu) দাপট। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে নতুন করে ১৫৯ জন ইনফ্লুয়েঞ্জায় (Influenza) আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১১৪ জনই H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সোয়াইন ফ্লু-তে আক্রান্ত। ফলে ২০২৬ সালে দিল্লিতে মোট H1N1 আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৭৭। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থমন্ত্রী জেপি নড্ডা (JP Nadda)।
কেন্দ্রের জরুরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড.পঙ্কজ কুমার সিং এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ও দিল্লি সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠকে দেশে H1N1-এর বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে জাতীয় নজরদারি ও মহামারী পরিস্থিতি, ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা-লাইক ইলনেস’ (ILI) এবং ‘সিভিয়ার অ্যাডিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন’-এর প্রবণতা, পরীক্ষা ও ল্যাবরেটরি নজরদারি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি, মরশুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা মোকাবিলায় হাসপাতালগুলির প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখা হয়।
বৈঠকে নাড্ডা কড়া নজরদারি বজায় রাখা, শক্তিশালী সার্ভেল্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আগাম প্রস্তুতির উপর জোর দেন। ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্তের প্রবণতার উপর নিয়মিত নজর রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, দিল্লিতে ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে H1N1-ই সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে। ২০ অগস্ট নতুন করে ১৫৯ জন ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১১৪ জন H1N1 পজিটিভ। অর্থাৎ, একদিনে নতুন করে আক্রান্তদের প্রায় ৭২ শতাংশই সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত।
২০২৬ সালে দিল্লিতে এখনও পর্যন্ত H1N1 আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৭৭৭। এর পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩৯২। H1N1 হল ইনফ্লুয়েঞ্জা এ-র একটি উপপ্রজাতি, যা সাধারণভাবে সোয়াইন ফ্লু নামে পরিচিত।
চলতি বছরে দিল্লিতে এখনও পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৬০২ জন ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২,৩৯২ জন ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এবং ২১০ জন ইনফ্লুয়েঞ্জা বি-তে আক্রান্ত।
২০ অগস্ট নতুন করে চারজন ইনফ্লুয়েঞ্জা বি-তে আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছরে ইনফ্লুয়েঞ্জা বি আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২১০। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দিল্লিতে বর্তমানে যে ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তার সিংহভাগই ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ। যার মধ্যে H1N1-এর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
জে পি নাড্ডার নেতৃত্বে বৈঠকে শুধু সংক্রমণের পরিস্থিতিই নয়, আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়লে তার মোকাবিলায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো কতটা প্রস্তুত, তাও পর্যালোচনা করা হয়।
দিল্লির হাসপাতালগুলিতে বেডের সংখ্যা, ক্রিটিক্যাল কেয়ার পরিষেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রীর মজুত নিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ILI ও SARI-এর প্রবণতা এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণের উপর নজরদারি আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
দিল্লিতে ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভিড়ের জায়গায় মাস্ক ব্যবহার করলে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। নিয়মিত হাত ধোয়া এবং চোখ, নাক ও মুখে অযথা হাত না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
জ্বর, সর্দি, কাশি বা অন্যান্য ফ্লু-এর মতো উপসর্গ দেখা দিলে অন্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। দিল্লিতে H1N1-সহ ইনফ্লুয়েঞ্জার পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর নিয়মিত নজর রাখছে বলে জানানো হয়েছে।