
নয়াদিল্লি: সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ টাকা বেশি। দেশজুড়ে শুরু হয়েছে রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি। কেন্দ্র বারংবার জোগান ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করলেও, সোজা পথে এলপিজি পাচ্ছেন না আমজনতা। গুনতে হচ্ছে যুদ্ধের খেসারত। দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরু — দেশের অন্যতম শহরগুলিতে তৈরি হয়েছে হাহাকার।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয়াদিল্লির ইউসুফ সরাইয়ে রাস্তার ধারেই ছোট্ট খাবারের দোকান চালানো দুই জনৈক ব্যক্তি গত তিন দিন হন্যি হয়ে খোঁজার পর অবশেষে আড়াই হাজার টাকা খরচ করে একটি বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডার জোগার করতে পেরেছেন। সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পরে দিল্লিতে একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম হয়েছে ১ হাজার ৮৮৪ টাকা। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে সেই সিলিন্ডার বিকোচ্ছে আড়াই হাজারেরও বেশি দামে।
একই পরিস্থিতি বেঙ্গালুরুতেও। ‘কাড়াক সিং কা ধাবা’ নামে বিখ্যাত হোটেলের মালিক কাওয়ালিজিৎ সিং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছে, “বেঙ্গালুরু আউলেটে আর সিলিন্ডার নেই। বাজারে নতুন সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। আর একান্তই মিললে, তার দাম অত্যাধিক।” বর্তমানে দেশের ১৫টি শহরে নিজস্ব আউটলেট রয়েছে কাওয়ালিজিৎদের। আগে যেখানে তাঁদের গোটা দিনের এলপিজি খরচ ৩০ থেকে ৫০ হাজারের মধ্যে মিটে যেত। যুদ্ধ শুরুর পর তা ১ লক্ষ টাকার গন্ডি পেরিয়ে গিয়েছে।
একই পরিস্থিতি কলকাতাতেও। শহরের রাস্তারের ধারে স্থিতু বহু খাবারের দোকানের মালিকের অভিযোগ, বাণিজ্যিক সিলিন্ডার মিলছে না আর মিললেও তার দাম আকাশছোঁয়া। ডিলাররা ফোনও তুলছেন না। ফলত, গ্যাসের পিছনে বাড়তি খরচ প্রভাব ফেলছে খাদ্যপণ্যেও। বাড়ছে দাম। যুদ্ধের খেসারত দিচ্ছেন আমজনতা। ইতিমধ্যে রাজ্যগুলিকে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে যাতে কালো বাজারি না হয়, তা নিশ্চিত করতে বলেছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে কালোবাজারি রুখতে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।