
নয়া দিল্লি: বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্ক ভারতীয় রেলওয়ে। লক্ষ লক্ষ যাত্রী প্রতিদিন ট্রেনে যাতায়াত করেন। এবার রেলস্টেশনে যাত্রীদের জন্য দেওয়া পানীয় জলের মান নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠল। সম্প্রতি কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)-এর রিপোর্টে উঠে এসেছে, একাধিক স্টেশনে কুলারের পানীয় জলে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গিয়েছে! এই ব্যাকটেরিয়া পেটে গেলে, মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে।
শুধু পানীয় জল নয়, বহু স্টেশনেই শৌচাগার, বসার জায়গা, জলের কল সহ একাধিক ন্যূনতম পরিষেবার ঘাটতিও ধরা পড়েছে কেন্দ্রের রিপোর্টে। গত ১২ অগস্ট সংসদে পেশ করা ক্যাগ (CAG)-এর “ভারতীয় রেলওয়ের নন-সাবার্বান রেলওয়ে স্টেশনগুলিতে যাত্রী পরিষেবা ও স্বচ্ছতা” (Passenger Amenities and Sanitation at Non-Suburban Railway Stations in Indian Railways) রিপোর্টে রেলের যাত্রী পরিষেবার এই চিত্র সামনে এসেছে।
ক্যাগ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ছয়টি জোনের ৫৯টি স্টেশনে পানীয় জলের ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা করা হয়েছিল। বেশ কয়েকটি স্টেশনে পানীয় জলে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী-
এছাড়াও ২০২২-২৩ সালে আটটি জোনের ৪৯টি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের কল থেকে নেওয়া পানীয় জলের নমুনা এবং ২০২৩-২৪ সালে নয়টি জোনের ৫৬টি স্টেশনের নমুনায় একাধিক ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে ই-কোলাইও রয়েছে।
রেলের যাত্রী পরিষেবা খতিয়ে দেখতে দেশের বিভিন্ন জোনের ৫১২টি নন-সাবার্বান স্টেশন পরীক্ষা করে ক্যাগ। এর মধ্যে ৪৫৮টি স্টেশনে, অর্থাৎ ৮৯ শতাংশেরও বেশি স্টেশনে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পরিষেবার (Minimum Essential Amenities) ঘাটতি পাওয়া গিয়েছে। কোথাও নির্দিষ্ট পরিষেবা একেবারেই ছিল না, আবার কোথাও রেল বোর্ডের নির্ধারিত মানের তুলনায় পরিষেবা কম ছিল।
প্রসঙ্গত, রেল বোর্ড ২০১৮ সালের এপ্রিলে স্টেশনগুলির জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পরিষেবার নিয়ম নির্ধারণ করেছিল। ২০১৮ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে সব স্টেশনে সেই পরিষেবাগুলি চালু করা বা তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ন্যূনতম পরিষেবার মধ্যে রয়েছে পানীয় জল, ওয়েটিং হল, বসার জায়গা, প্ল্যাটফর্মের ছাউনি, ইউরিনাল, শৌচাগার, উঁচু প্ল্যাটফর্ম, পাখা, ফুট ওভারব্রিজ, ডাস্টবিন, ঘড়ি এবং পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম।
দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রথম শ্রেণির (NSG-1) স্টেশনেও রেল পরিষেবার ঘাটতি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, হাওড়া, শিয়ালদহ, নয়া দিল্লি ও মুম্বই সেন্ট্রালের নাম। এই স্টেশনগুলিতেও পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, ইউরিনাল, শৌচাগার, ডাস্টবিন এবং ইলেকট্রনিক ট্রেন ইন্ডিকেটর বোর্ডের মতো পরিষেবায় ঘাটতি পাওয়া গিয়েছে।
ক্যাগ-এর রিপোর্ট বলছে, ১২টি স্টেশনে পানীয় জলের কল, আটটি স্টেশনে পাখা এবং আটটি স্টেশনে ওয়াটার কুলার-এর ঘাটতি ছিল। পাঁচটি স্টেশনে সাইনেজেরও ঘাটতি পাওয়া গিয়েছে।
ক্যাগ রিপোর্ট অনুযায়ী—
ক্যাগ (CAG) জানিয়েছে, দেশে মোট ৫,৯০৮টি নন-সাবার্বান গ্রুপ (Non-Suburban Group) স্টেশন রয়েছে। ২০২৩-২৪ সালে ভারতীয় রেল প্রতিদিন ৭,৪২৪টিরও বেশি নন-সাবার্বান যাত্রীবাহী ট্রেন চালিয়েছে। ওই বছরে নন-সাবার্বান যাত্রীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২৯২.৪ কোটি। এই বিপুল সংখ্যক যাত্রীর কথা মাথায় রেখেই স্টেশনগুলিতে যাত্রী পরিষেবা ও পরিচ্ছন্নতার মান ঠিক রাখা জরুরি বলে উল্লেখ করেছে ক্যাগ।
পানীয় জলের মান নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ক্যাগ। জল সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়মিত পরিদর্শন এবং পানীয় জলের সমস্ত নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে তারা।
ক্যাগ জানিয়েছে, এই রিপোর্টে মূলত ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ সালের পরীক্ষায় পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগে ধরা পড়লেও রিপোর্টে উল্লেখ না হওয়া কিছু ঘটনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ২০২৩-২৪ সালের পরের কিছু ঘটনাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।