
নয়া দিল্লি: ই২০ (E20) নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। অনেক গাড়ি-বাইক মালিকদেরই অভিযোগ, ই২০ পেট্রোল (E20 Fuel) ব্যবহারের পর গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। মাইলেজ কমে যাচ্ছে। গাড়ির ইঞ্জিনে মরচে পড়ছে। এবার কেন্দ্রীয় সরকারই জবাব দিল যে ই২০ ব্যবহারে গাড়ির ঠিক কী ক্ষতি হচ্ছে।
বুধবার কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে জানায়, ই২০ ব্যবহারের কারণে পুরনো বিএস-৩ (BS-III) গাড়ি, যেগুলি ২০১৬ সালের আগে তৈরি হয়েছে, সেই গাড়িগুলির কিছু কিছু রাবার পার্টস ও গ্যাসকেটে ক্ষতি হচ্ছে। তবে গাড়ির সামগ্রিক পারফরম্যান্সে ক্ষতি হচ্ছে না বা ইঞ্জিন মডিফিকেশনের প্রয়োজন পড়ছে না।
সিপিআই সাংসদ এএ রহিম রাজ্যসভায় ই২০ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তার জবাবেই কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও হাইওয়ে মন্ত্রী নিতিন গড়করী জানান যে ইন্ডিয়ার অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড, দেহরাদুনের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব পেট্রোলিয়াম, সোশ্যাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফাকচারার্স এবং অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার গবেষণা করা হয়েছে দুই চাকা ও চার চাকার গাড়িতে ই২০-র প্রভাব নিয়ে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, গবেষণায় দেখা গিয়েছে, E20 জ্বালানি ব্যবহার করেও বিএস-৬ (BS-VI) মানের যানবাহনে নির্ধারিত দূষণ নির্গমন (এমিশন) মান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও গবেষণায় বলা হয়েছে, ইথানল-মিশ্রিত ই২০ (E20) জ্বালানি ব্যবহারের জন্য গাড়ি বা দু’চাকার যানবাহনের ইঞ্জিনে কোনও ধরনের পরিবর্তন বা মডিফিকেশনের প্রয়োজন হয় না।
গড়করি দাবি করেন যে পুরনো গাড়ির পারফরমেন্সেও ই২০-র বিশেষ কোনও প্রভাব পড়ছে না। তিনি বলেন, “এই গবেষণাগুলি নিশ্চিত করেছে যে বিভিন্ন গাড়ির পারফরম্যান্সে কোনও প্রভাব পড়ছে না কিংবা ই২০ জ্বালানিতে চলা গাড়ি মাঝপথে খারাপও হয়নি।”
২০০৫ সাল থেকে ২০১৬-র মধ্যে তৈরি বিএস-৩ গাড়িতে কিছু রাবার যন্ত্রাংশ বদলের প্রয়োজন পড়ছে, যা রুটিন সার্ভিসিংয়ের সময় বদলানো যায়।
মাইলেজ নিয়ে প্রশ্নে গড়করি বলেন যে শুধুমাত্র জ্বালানির ধরনের উপরে গাড়ির মাইলেজ নির্ভর করে না। অপারেশনাল ও মেইনটেন্যান্স সংক্রান্ত নানা বিষয়ের উপরও নির্ভর করে। অর্থাৎ গাড়ি কীভাবে চালানো হচ্ছে, গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বা মেইনটেন্যান্স, ফুয়েলের মান, ট্রাফিক , টায়ারের প্রেশার, হুইল অ্যালাইনমেন্ট, এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহারের উপরও গাড়ির মাইলেজ নির্ভর করে।