
মুম্বই: দিন কয়েক আগেই ভোট সংক্রান্ত যাবতীয় কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার করার বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশ জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। ভোটের প্রচারে কোনওভাবেই শিশুদের ব্যবহার করা যাবে না, এমনকি, প্রার্থীরা বাচ্চাদের কোলে নিয়ে ভোট প্রচারেও যেতে পারবেন না বলে জানিয়েছিল কমিশন। কিন্তু, দেশের রাজনৈতিক নেতারা যে তিমিরে ছিলেন, সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছেন। কমিশনের ওই নির্দেশের পর, সপ্তাহ না ঘুরতেই সেই সেই নির্দেশকে যেন ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শিবসেনা দলের এক বিধায়ক। বাবা-মা তাঁকে ভোট না দিলে, বাচ্চাদের দুদিন খাবার না খাওয়ার নিদান দিয়েছেন ওই বিধায়ক, এমনটাই অভিযোগ।
সামনেই লোকসভা নির্বাচন। তারপর অক্টোবরে মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন। ২০১৯ সালের নির্বাচনের পর থেকে গত পাঁচ বছরে মহারাষ্ট্রে যেভাবে বছর বছর রাজনৈতিক নাটক চলেছে, তাতে এইবারের নির্বাচনে জনতা কোনদিকে যাবে, তা কোনও রাজনৈতিক দলই আঁচ করতে পারছে না। নেতারা এখন থেকেই ভোটের প্রচারে নেমে পড়েছেন। এই অবস্থায়, বাচ্চাদের দুদিন না খেতে বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন কালামনুরির বিধায়ক সন্তোষ বাঙ্গার। সম্প্রতি, মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলায়, জেলা পরিষদ পরিচালিত এক স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা দলের এই বিধায়ক। এক ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, তিনি মারাঠি ভাষায় স্কুলের শিশুদের বলছেন, “পরের ভোটে যদি তোমাদের বাবা-মা আমায় ভোট না দেন, তাহলে তোমরা দুই দিন খাবে না।”
এরপর, সন্তোষ বাঙ্গার ওই স্কুলপড়ুয়াদের দিয়েও তাঁর বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করান। পড়ুয়াদের তিনি বলেন, তারা যেন বাড়ি গিয়ে তাদের বাবা-মাকে, আগামী নির্বাচনে তাঁকে ভোট দিতে বলেন। স্কুল-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সন্তোষ বাঙ্গার আরও বলেন, খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিতে। যদি তাদের বাবা-মা তাদের জিজ্ঞেস করে, কেন তারা খেতে চাইছে না, সেই সময় তাদের বলতে হবে, “সন্তোষ বাঙ্গারকে ভোট দাও, তবেই আমরা খাব।”
Viral | Shivsena (Shinde) MLA Santosh Bangar from Kalamnuri, Hingoli advising school children to go on a two day hunger strike, to force their parents to vote for him!! pic.twitter.com/2NpkH7l5ZJ
— MUMBAI NEWS (@Mumbaikhabar9) February 10, 2024
স্বাভাবিকভাবেই সন্তোষ বাঙ্গারের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস এবং শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি নেতারা, সন্তোষ বাঙ্গারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এনসিপি-শরদ পওয়ারের মুখপাত্র ক্লাইড ক্র্যাস্টো বলেছেন, “বাঙ্গার স্কুলের শিশুদের যা বলেছেন, তাতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি এর আগেও এই ধরনের অপরাধ করেছেন। বিজেপির বন্ধু হওয়ায় অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। কমিশনের উচিত, কোনও পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।” কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াদেত্তিওয়ারও সত্নোষ বাঙ্গারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনে। তিনি আরও বলেছেন, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ঘুমিয়ে রয়েছেন।
বস্তুত এর আগেও, বহুবার কুৎসিত মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন সন্তোষ বাঙ্গার। গত মাসেও তিনি বলেছিলেন, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পর, নরেন্দ্র মোদি যদি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ফিরে না আসেন, সাহলে তিনি প্রকাশ্যে নিজেকে ফাঁসিতে লটকে দেবেন।
এদিকে, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, প্রচারে কোনোভাবে ব্যবহার করা যাবে না শিশুদের। এই বিষয়ে তারা ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করবে। শিশুদের দিয়ে পোস্টার সাঁটানো, প্যামফ্লেট বিতরণ করানো, স্লোগান দেওয়ানো, রাজনৈতিক প্রচারের সময় নেতা বা প্রার্থীদের কোলে শিশুদের রাখা, শিশুদের গাড়িতে রাখা, নির্বাচনী সমাবেশে নিয়ে যাওয়া – কোনওভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। শিশুরা কবিতা বলে, গান গেয়ে কিংবা রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর প্রতীক বা ছবি দেখিয়েও প্রচার করতে পারবে না। যদি কোনও দল বা ব্যক্তি শিশুদের এই ধরনের কোনও কাজে ব্যবহার করে, তাহলে, শিশু শ্রমিক (নিষিদ্ধ ও নিয়ম) আইন, ১৯৮৬ মেনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।