
নয়া দিল্লি: ইরানের সঙ্গে চাবাহার বন্দর নিয়ে ১০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। আর তারপরই সম্ভাব্য স্যাংশন বা নিষেধাজ্ঞা জারি করার সতর্কতা দিয়েছে আমেরিকা। এবার আমেরিকাকে যোগ্য জবাব দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বললেন, এই প্রকল্পে সকলেই উপকৃত হবেন। এই নিয়ে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রাখলে চলবে না। অতীতে যে আমেরিকা নিজেও চাবাহার বন্দরের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছে, সেই উদাহরণও তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী।
কলকাতায় নিজের বই “হোয়াই ভারত ম্যাটারস”-র বাংলা সংস্করণের উদ্বোধনে এসেছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেখানেই তাঁকে ভারতের সঙ্গে ইরানের চুক্তি স্বাক্ষর করা নিয়ে আমেরিকার যে প্রতিক্রিয়া, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, “আমি কিছু মন্তব্য দেখেছি, কিন্তু এটা আসলে যোগাযোগ, বোঝানোর বিষয় যে এই চুক্তি আসলে সকলের লাভের জন্যই। আমার মনে হয় না এটা নিয়ে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রাখা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “ওরা (আমেরিকা) আগে এইরকম করেনি। যদি অতীতে চাবাহার বন্দর নিয়ে আমেরিকার আচরণ লক্ষ্য করি, তবে দেখা যাবে আমেরিকা নিজেই স্বীকার ও প্রশংসা করেছে চাবাহার বন্দরের বিপুল প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে…আমরা এই বিষয়ে কাজ করব।”
প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে ভারত ১০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করতেই, মঙ্গলবার আমেরিকা বলে যে তেহরানের সঙ্গে যে বা যারাই বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করার কথা ভাবছে, তাদের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত। ইরানের উপরে আমেরিকা যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তা জারি থাকবে বলেই জানান মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল ডেপুটি মুখপাত্র বেদান্ত পটেল।
ইরানের চাবাহার বন্দর ৭২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই বন্দরের মাধ্যমে ভারত, ইরান, আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, রাশিয়া, মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহন করা হবে।
শুরু থেকেই ভারত ও ইরানের মধ্যে এই চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে আমেরিকা। ২০০৩ সালে, ভারত ইরানের চাবাহার বন্দর উন্নয়নের প্রস্তাব দিয়েছিল। এরপরই আমেরিকা ইরানের উপরে সন্দেহভাজন পারমাণবিক কার্যকলাপের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর কারণে ধীরগতিতে বন্দরের উন্নয়নে হচ্ছিল।