Air Asia News: বিমানে নষ্ট কাঁঠালের চারা, এবার হাজার হাজার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এয়ার এশিয়াকে

Keralam Consumer Commission Order: বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঠিক কী ঘটেছে? সম্প্রতি, কেরলমের কনজ়িউমার কমিশনে অভিযোগ করেছিলেন আব্দুল আজিজ সি নামে এক ব্যক্তি। কেরলমের পালাক্কাড়ের বাসিন্দা। পেশায় কৃষক। বিভিন্ন হাইব্রিড ফলের চাষ ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত তিনি।

Air Asia News: বিমানে নষ্ট কাঁঠালের চারা, এবার হাজার হাজার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এয়ার এশিয়াকে
এয়ার এশিয়াImage Credit source: Creative Touch Imaging Ltd./NurPhoto via Getty Images

Jun 14, 2026 | 5:23 PM

কোচি: বিমানেই বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু, একটুর জন্য মিস করেন কানেক্টিং ফ্লাইট (Connecting Flight)। যদিও, তাঁর কোনও দোষ নেই। ফ্লাইটই দেরিতে ওড়ার কারণে তিনি সময়ে পৌঁছতে পারেননি। বিমান সংস্থাকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তাঁকে আর কোনও বিমানের টিকিটের (Flight Ticket) ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এবার সেই বিমান সংস্থাকেই মোটা টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে হল ওই যাত্রীকে। তবে, ফ্লাইট মিস হওয়ার জন্য ক্ষতিপূরণ (Air Asia compensation) নয়, কারণ কিন্তু অন্য।

বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঠিক কী ঘটেছে? সম্প্রতি, কেরলমের কনজ়িউমার কমিশনে অভিযোগ করেছিলেন আব্দুল আজিজ সি নামে এক ব্যক্তি। কেরলমের পালাক্কাড়ের বাসিন্দা। পেশায় কৃষক। বিভিন্ন হাইব্রিড ফলের চাষ ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত তিনি।

ঠিক কী ঘটেছে?

২০২৫ সালের ২৬ অগস্ট তিনি কোচি থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর হয়ে ইন্দোনেশিয়ার কুয়ালানামু গিয়েছিলেন। আসলে তিনি একটি বিশেষ হাইব্রিড কাঁঠালের চারা সংগ্রহ করতে সেখানে গিয়েছিলেন। কোচিতে ফেরার কথা ছিল ৩০ অগস্ট। সেই অনুযায়ী ফ্লাইটের টিকিটও কাটেন। ওই চারা নিয়ে এয়ার এশিয়ার বিমানে প্রথমে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। তারপর কুয়ালালামপুর থেকে কানেক্টিং ফ্লাইটে কোচিতে পৌঁছনোর কথা ছিল। কিন্তু, কুয়ালানামু থেকে কুয়ালালামপুরের এয়ারএশিয়ার ফ্লাইট কয়েক ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে। যার ফলে কোচিগামী কানেক্টি ফ্লাইটটি তিনি মিস করেন।

আজ়িজের দাবি, বিমান সংস্থার কর্মীদের জানান, তাঁর সঙ্গে একটি হাইব্রিড কাঁঠালের চারা রয়েছে। দীর্ঘ সময় এভাবে থাকলে, চারাটি নষ্ট হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে, প্রয়োজনে অতিরিক্ত ভাড়া দিতেও রাজি ছিলেন তিনি। কিন্তু এয়ার এশিয়ার তরফে জানানো হয়, কোচির পরবর্তী ফ্লাইট পাওয়া যাবে ২ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ তিন দিন পরে। বিমানের গাফিলতির কারণেই তাঁর কাঁঠালের চারাটি নষ্ট হয়ে যায়। এমনই অভিযোগ তুলে কনজ়িউমার কমিশনে যান আজ়িজ।

কমিশনের বক্তব্য

তদন্তের পর কমিশনের পর্যবেক্ষণ এয়ার এশিয়ার দাবি বিভ্রান্তিকর। আসলে দেখা গিয়েছে, আজিজ নিজেই ৩১ অগস্ট কুয়ালালামপুর থেকে কোচির একটি এয়ারএশিয়া ফ্লাইটের টিকিট বুক করে দেশে ফিরেছিলেন। সেই টিকিটও প্রমাণ হিসেবে কমিশনকে জমা দেওয়া হয়। অর্থাৎ এয়ার এশিয়া যে দাবি করেছিল তিনদিন পর ফ্লাইট রয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যে ও বিভ্রান্তিকর বলে পর্যবেক্ষণ কমিশনের।

কমিশন পর্যবেক্ষণে জানায়, ফ্লাইটে দেরি এবং কানেক্টি ফ্লাইট মিস হওয়ার ঘটনায় সম্পূর্ণভাবে বিমান সংস্থার ত্রুটি রয়েছে। কমিশনের মতে, ওই ব্যক্তি আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণারও শিকার হয়েছেন। তাই তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। তাই রায়ে এয়ার এশিয়াকে মোট টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • বিমান ভাড়া বাবদ ৩০ হাজার ৭৫০ টাকা ফেরত দিতে হবে
  • যাতায়াত ও থাকার খরচ বাবদ ২৫ হাজার টাকা
  • পরিষেবাগত ত্রুটির জন্য ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ
  • মামলার খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা দিতে হবে

সব মিলিয়ে ওই ব্যক্তিকে ৯০ হাজার ৭৫০ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। রায়ে আরও বলা হয়েছে, ৪৫ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে দিতে হবে বিমান সংস্থাকে।

Follow Us