
ভুবনেশ্বর: নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ঘিরে ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল দেশ। দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার (Dharmendra Pradhan Resignation)। সেই দাবি পূরণ করেই ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। থেমেছে ছাত্র আন্দোলন। ওই বিতর্কের অবসানের পর এবার নিজের ইস্তফা নিয়ে মুখ খুললেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান।
গত ২৫ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিরাবতা ভেঙে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান যে মন্ত্রী পদ তাঁর কাছে কোনওদিনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে গিয়েছিলেন ইস্তফার প্রস্তাব নিয়ে। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর যুক্তি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে আন্দোলন চলাকালীন কিছু মানুষ জেন-জ়িদের ‘বিভ্রান্ত’ করা হয়েছিল।
ভুবনেশ্বরে জিএম ইউনিভার্সিটিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “জেন-জ়ি আমাদের সন্তান। কিছু মানুষ এদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। এদের সঙ্গে আমার কোনও ব্যক্তিগত সমস্যা নেই। প্রতি বছর অন্তত দুই কোটি শিশু জন্মায়। বিগত ১০ বছরে ২০ কোটি শিশু জন্মেছে। তাদের আশা-আকাক্ষ্মা আছে এবং তারা ভারতকে বিশ্বগুরু বানাবে। পদ আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
এরপর রাইরাখোলেও একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেখানে বিজেডি কর্মী-সমর্থকরা তাঁকে উদ্দেশ্য করে গো-ব্যাক স্লোগান দেন। বিমানবন্দরের কাছেও একই স্লোগান শুনতে হয়েছিল। বিজেডি-র এই বিক্ষোভের পাল্টা জবাবে ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেডি নেতা নবীন পট্টনায়ককে আক্রমণ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি কৃষকের ছেলে। যদি আমাকে চলে যেতে বলা হয়, তাও আমি ফিরে আসব। নবীন বাবুও আমায় বলেছেন যে ওড়িশার মানুষের জন্য আমি লজ্জার। আমি অত্যন্ত খারাপ মানুষ। আমি কি এমন কিছু করেছি যা ওড়িশার মানুষকে লজ্জিত করে?” ভিড় থেকে উত্তর আসে ‘না’।
এরপর তিনি আরও বলেন, “আমি হয়তো রাজ্যের জন্য কোনও সম্মান বা গৌরব আনতে পারিনি, কিন্তু আমার কাজের মাধ্যমে কখনও রাজ্যের মানুষের অসম্মান করিনি। এমন কোনও কাজ আমি কখনও করব না, যা রাজ্যের ভাবমূর্তিতে দাগ লাগায়।”
তিনি জানান, ১২ বছর আগে জগন্নাথ দেব ও দেবী সমলেশ্বরীর আশীর্বাদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে বিজেডি বিধায়কের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানান ধর্মেন্দ্র প্রধান। বলেন, “বিজেডির বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে আমি প্রসন্ন ভাইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলাম, আমার যাওয়া উচিত কি না। প্রসন্ন আমাকে আসতে বলেছিলেন এবং আশ্বাস দিয়েছিলেন যে আমাকে স্বাগত জানানো হবে। তাঁর অনুমতি নিয়েই আমি এখানে এসেছি”।