
নয়া দিল্লি: ইনস্টাগ্রামে বরাবরই বেশ অ্যাক্টিভ থাকতেন। গত বছরের জুলাই মাসের পর আচমকা লম্বা গ্যাপ। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে যেন হঠাৎ উধাও হয়ে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া ত্রিপুরা রিঙ্কি চাকমা। তারপর আবার হঠাৎ করেই একটি পোস্ট ভেসে ওঠে তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে। গত মাসেই। সেখানেই প্রথম জানা যায়, ত্রিপুরার মডেল-তনয়ার ক্যানসারের কথা। দিল্লি এইমসে ভর্তি ছিলেন। কেমো চলছিল। কিন্তু জীবন-যুদ্ধে এঁটে উঠতে পারলেন না। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই প্রয়াত ক্যানসার আক্রান্ত প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া ত্রিপুরা রিঙ্কি চাকমা। প্রায় দুই বছর ধরে ব্রেস্ট ক্যানসারের সঙ্গে চলা সংগ্রামে অবশেষে ইতি টানলেন রিঙ্কি।
এত অল্প বয়সে রিঙ্কির চলে যাওয়ায় স্তম্ভিত ত্রিপুরা তথা গোটা দেশের সেলেব মহল। ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া শোক প্রকাশ করে পোস্ট করেছে তাদের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে। প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া ত্রিপুরার আত্মার শান্তি কামনা করেছে সংস্থা। গত প্রায় বছর দুয়েক ধরে ক্যানসারে ভুগলেও, বিষয়টি শুরুতে জনসমক্ষে আনতে চাননি তিনি। আশায় ছিলেন, ক্যানসারকে জয় করে সুস্থ হয়ে আবার ফিরে আসবেন গ্ল্যাম দুনিয়ায়। শেষে গত মাসে এক ইনস্টাগ্রামে পোস্টে দিল্লির এইমসে নিজের ছবি পোস্ট করেন রিঙ্কি। জানান, তাঁর ব্রেস্ট ক্যানসারের কথা। তিনি যে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে যুঝে উঠতে পারছেন না, সেটা হয়ত রিঙ্কি নিজেও টের পেয়েছিলেন। ইনস্টাগ্রামের ওই পোস্টে রিঙ্কি লিখেছিলেন, ‘দুই বছর ধরে কাউকে বলিনি। ভেবেছিলাম লড়াই করব। ঠিক হয়ে যাব। কিন্তু আমার মনে হয়, এবার সবাইকে আমার স্বাস্থ্যের বিষয়ে জানানোর সময় এসে গিয়েছে।’
চাকমা ওই পোস্টে নিজের শরীরের অবস্থার কথা পুরোটা তুলে ধরেছিলেন। জানিয়েছিলেন, প্রথম সার্জারির পর তাঁর ফুসফুসের উপর প্রভাব পড়ে। তারপর মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। বুক ভরা আশঙ্কা নিয়ে রিঙ্কি লিখেছিলেন, তাঁর ব্রেনের সার্জারি তখনও বাকি। ক্যানসার ফুসফুস অবধি তাঁর শরীরের ডানদিকের গোটা অংশটাকে ভিতর থেকে খেয়ে ফেলতে শুরু করেছিল। সেদিনই রিঙ্কি বলেছিলেন, আর ৩০ শতাংশ আশার আলো দেখছি।