
নয়া দিল্লি: ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন। পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রুখতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের, নতুন টাস্ক ফোর্স (Task Force) গঠন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। রবিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা করেন। এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানিকে। এছাড়াও প্রযুক্তি, মহাকাশ, নিরাপত্তা, শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনের ছয়জন বিশেষজ্ঞ এই কমিটিতে রয়েছেন।
ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে দেওয়া ভিডিয়ো বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আদালত এবং কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু আইন করলেই হবে না, পরীক্ষা ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে মানুষের আস্থা ফিরে আসে।”
১৯৫৫ সালের ২ জুন বেঙ্গালুরুতে জন্ম নন্দন নিলেকানির। তিনি আইআইটি বম্বে থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক করেন। আধার (Aadhaar) প্রকল্পের অন্যতম রূপকার হিসাবে পরিচিত নিলেকানি। পরীক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে প্রশ্নফাঁস রোধ, নিরাপত্তা জোরদার এবং পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার জন্য তিনি সুপারিশ করবেন বলেই জানা গিয়েছে।
কেরলের আলাপ্পুঝা জেলার বাসিন্দা এস সোমনাথ ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইসরোর চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রায় ৪০ বছরের অভিজ্ঞ এই মহাকাশ বিজ্ঞানী রকেট ও মহাকাশ প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পরীক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।
অসমের বরপেটা জেলার বাসিন্দা তপন কুমার ডেকা ১৯৮৮ ব্যাচের আইপিএস অফিসার। তিনি ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (IB) ডিরেক্টর ছিলেন। সন্ত্রাসবাদ দমন, ২৬/১১ মুম্বই হামলার তদন্ত, ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা অভিযানে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরীক্ষার নিরাপত্তা জোরদারে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।
চেন্নাইয়ে জন্ম ভি কামাকোটির। তিনি বর্তমানে আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর। কম্পিউটার আর্কিটেকচার, সাইবার নিরাপত্তা এবং ভিএলএসআই প্রযুক্তির বিশেষজ্ঞ তিনি। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রের এআই টাস্ক ফোর্সেরও চেয়ারম্যান ছিলেন। পরীক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেবেন।
১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস অফিসার অনিতা কারওয়ালের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ৩৬ বছরেরও বেশি। তিনি ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সিবিএসই-র চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা দফতরের সচিব হিসেবে জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP 2020) এবং নতুন জাতীয় পাঠ্যক্রম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
রাজস্থানে জন্ম অমৃত লাল মীনার। তিনি ১৯৮৯ ব্যাচের আইএএস অফিসার। বিহারের মুখ্যসচিব এবং কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রকের সচিব হিসেবে কাজ করেছেন মীনা। প্রশাসন ও বৃহৎ পরিসরের কাজ পরিচালনায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা পরীক্ষা পরিচালনার দক্ষতা বাড়াতে কাজে লাগবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিশেষজ্ঞ কমিটি দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার জন্য সুপারিশ করবে। বিশেষ করে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-কে আরও শক্তিশালী করা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানো এবং প্রশ্নফাঁস রোধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে।
কেন্দ্র জানিয়েছে, এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও দ্রুত তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার দিকেও সরকার এগোচ্ছে।