১৪ হাজার চাকরি হবে! চুক্তি হল দেশের প্রথম টেলিকম ম্যানুফ্যাকচারিং জোনের

Telecom Manufacturing Zone: শিল্পাঞ্চলে মোবাইল ফোন, নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, ফাইবার অপটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, ৫জি ও ৬জি প্রযুক্তির গবেষণা, নকশা, পরীক্ষা এবং উৎপাদনের জন্য বিশ্বমানের পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। অর্থাৎ গবেষণা থেকে শুরু করে উৎপাদন পর্যন্ত পুরো টেলিকম শিল্পের একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম একই জায়গাযর মধ্যে গড়ে উঠবে।

১৪ হাজার চাকরি হবে! চুক্তি হল দেশের প্রথম টেলিকম ম্যানুফ্যাকচারিং জোনের
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যেতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ও মধ্য প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব।Image Credit source: TV9 বাংলা

|

Jul 30, 2026 | 8:17 PM

ভোপাল: টেলিকম জগতে বড় বিপ্লব। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া (jyotiraditya Scindia) ও মধ্য প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদবে (Dr Mohan Yadav)-র উদ্যোগে ভারতের প্রথম টেলিকম ম্যানুফ্যাকচারিং জোন (Telecom Manufacturing Zone) তৈরি হতে চলেছে গোয়ালিয়রে (Gwalior)। ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে এতে। তৈরি হবে ১৪ হাজারেরও বেশি চাকরি।

ভারতের প্রথম টেলিকম ম্যানুফ্যাকচারিং জোন (TMZ) গড়ে উঠতে চলেছে মধ্য প্রদেশের গোয়ালিয়রে। এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের টেলিকমিউনিকেশন দফতর (DoT) এবং মধ্য প্রদেশ সরকারের শিল্পনীতি ও বিনিয়োগ উন্নয়ন দফতরের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক বা মউ (MoU) স্বাক্ষর হয়েছে। নয়া দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়নমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং মধ্য প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব।

এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, “গোয়ালিয়রে এই প্রকল্প মধ্য প্রদেশ তথা দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এই টেলিকম ম্যানুফ্যাকচারিং জোন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর স্বপ্নপূরণে বড় ভূমিকা নেবে। একইসঙ্গে ভারতকে বিশ্বমানের টেলিকম উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতেও সাহায্য করবে।”

জানা গিয়েছে, প্রায় ৩৫০ একর জমির উপর অত্যাধুনিক ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ মডেলে এই টেলিকম ম্যানুফ্যাকচারিং জোন তৈরি হবে। প্রথম পর্যায়ে মূল পরিকাঠামো গড়ে তুলতে কেন্দ্র সরকার ৫০০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেবে।

এই শিল্পাঞ্চলে মোবাইল ফোন, নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, ফাইবার অপটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, ৫জি ও ৬জি প্রযুক্তির গবেষণা, নকশা, পরীক্ষা এবং উৎপাদনের জন্য বিশ্বমানের পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। অর্থাৎ গবেষণা থেকে শুরু করে উৎপাদন পর্যন্ত পুরো টেলিকম শিল্পের একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম একই জায়গাযর মধ্যে গড়ে উঠবে।

৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, ১৪ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা-

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ আসতে পারে। এতে ১৪ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে গোয়ালিয়র-চম্বল অঞ্চলের যুবকদের জন্য এটি বড় সুযোগ হবে।

তিনি আরও জানান, ডিক্সন টেকনোলজিস (Dixon Technologies), এইচএফসিএল (HFCL) এবং তেজস নেটওয়ার্কস (Tejas Networks)-এর মতো বড় সংস্থাগুলি এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে। ফলে গোয়ালিয়র দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাই-টেক উৎপাদন ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

প্রকল্পটি পরিচালনার জন্য একটি স্পেশাল পারপাস ভেহিকল (SPV) তৈরি করা হবে। এতে মধ্য প্রদেশ সরকারের অংশীদারি থাকবে ৫১ শতাংশ এবং কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতরের অংশীদারি থাকবে ৪৯ শতাংশ। এই সংস্থাই প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার দায়িত্ব সামলাবে।

অনুষ্ঠানের শেষে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, “এই টেলিকম ম্যানুফ্যাকচারিং জোন শুধু একটি শিল্প প্রকল্প নয়, বরং ভারতের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের ভিত্তি”। তাঁর মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রকল্প ‘সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা’র (Cooperative Federalism) একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মধ্য প্রদেশ দেশের অন্যতম বড় ইলেকট্রনিক্স ও টেলিকম উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us