
নয়া দিল্লি: ফের একবার দাম বাড়বে পেট্রোল-ডিজেলের? আশঙ্কা এমনটাই। মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে বুধবার পাশ হয়ে গেল রাশিয়া স্যাংশন বিল। এই বিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে অপরিসীম ক্ষমতা থাকবে। যে সব দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনে, তাদের উপরে ১০০ শতাংশ ট্যারিফ বসাতে পারবেন। এখন শুধু এই বিলে ট্রাম্পের সই করার অপেক্ষা। আর এখানেই ভারতের চিন্তা, কারণ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও জ্বালানি কেনে ভারত।
যদি রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত সস্তায় ক্রুড তেল না কেনে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়বে। দেশে জ্বালানির দামে ওঠানামা নির্ভর করে ভারত কোন দেশ থেকে তেল কিনছে, বিশ্ববাজারে ক্রুড তেলের দাম কত, ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় মুদ্রার দাম কত রয়েছে, তার উপরে।
২০২২ সাল থেকে ভারত রাশিয়ার তেলের সবথেকে বড় ক্রেতা। যখন পশ্চিমি দেশগুলি যখন রাশিয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা চাপাচ্ছিল, তখন ডিসকাউন্টে, কম দামে তেল বিক্রি করছিল রাশিয়া। ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারত ৪০.৮ বিলিয়ন ডলার রাশিয়ান ক্রুড তেল আমদানি করেছে। ভারতে আমদানি করা তেলের ৫১ শতাংশই রাশিয়ার।
ভারত চাহিদার মোট ৮৮ শতাংশ ক্রুড তেলই আমদানি করে। হঠাৎ যদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে বড়সড় সঙ্কট দেখা দিতে পারে, কারণ তখন ভারতকে সেই বিপুল পরিমাণ ক্রুড তেল আমদানির জন্য বিকল্প সরবরাহকারী দেশ খুঁজতে হবে। সেক্ষেত্রে খরচ আরও বাড়বে। সেই প্রভাব সরাসরি পেট্রোল-ডিজেলের দামেও পড়বে, এমনটাই আশঙ্কা।
রাশিয়া ছাড়াও ভারত মধ্য প্রাচ্য, আফ্রিকা ও আমেরিকা থেকেও আমদানি করে।