
নয়া দিল্লি: আর্থিক প্রবৃদ্ধি বা জিডিপি (GDP)-র নতুন বার্ষিক ও ত্রৈমাসিক হিসাব প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষকে ভিত্তিবর্ষ ধরে ধরে নতুন তথ্য, নতুন মূল্যসূচক এবং উন্নত হিসাব পদ্ধতি ব্যবহার করে এই জিডিপি (GDP) সিরিজ আপডেট করা হয়েছে। এরপর জিডিপি (GDP)-র বিভিন্ন পরিসংখ্যান নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছে মন্ত্রক।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে উৎপাদন খাতে GVA-র Implicit Deflator বা পরোক্ষ মূল্যবৃদ্ধির হার -১.৫% হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ উৎপাদিত পণ্যের দাম কমেছে, এমন নয়।
কেন্দ্র জানিয়েছে, ডবল ডিফ্লেশন (Double Deflation) পদ্ধতিতে উৎপাদিত পণ্য এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম আলাদাভাবে হিসাব করা হয়। এই সময়ে কাঁচামালের দাম উৎপাদিত পণ্যের দামের তুলনায় বেশি হারে বেড়েছে। ফলে নূন্যতম গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (Nominal GVA) ৭.৭ শতাংশ বাড়লেও, আসল গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (Real GVA) বেড়েছে ৯.২ শতাংশ। এর ফলেই ডিফ্লেটর (Deflator) ঋণাত্মক হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জিডিপি ডিফ্লেটার (GDP Deflator) হল এমন একটি অর্থনৈতিক সূচক, যা কোনও নির্দিষ্ট বছরে দেশের ভিতরে উৎপাদিত সমস্ত নতুন পণ্য ও সেবার মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) পরিমাপ করে।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক— কোনও পণ্যের মোট উৎপাদনের মূল্য ১,০০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১,২০০ কোটি টাকা হয়েছে। ২০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণের খরচ ৮০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৯৭৬ কোটি টাকা হয়েছে। ২২ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। এখানে Nominal GVA বেড়েছে ১২ শতাংশ, কিন্তু Real GVA বেড়েছে ১৭.৫ শতাংশ। ফলে Implicit GVA Deflator নেতিবাচক হয়েছে।
পুরনো ২০১১-১২ ভিত্তিবর্ষের হিসাবে ২০২৫-২৬-এর প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপি (GDP) ছিল ৮৬.০৫ লক্ষ কোটি টাকা। পরে ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষে নতুন জিডিপি সিরিজ চালু হওয়ায় সেই হিসাব বদলে হয় ৮০.৩২ লক্ষ কোটি টাকা। এরপর নতুন তথ্য ও সূচক যোগ হওয়ায় হিসাব আরও কয়েকবার সংশোধন করা হয়। শেষ পর্যন্ত তা দাঁড়িয়েছে ৮০ লক্ষ কোটি টাকা।
কেন্দ্রের দাবি, চলতি বছরের GDP বৃদ্ধির হার বেশি দেখানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে গত বছরের GDP কমানো হয়নি। নতুন ভিত্তিবর্ষ, তথ্য ও হিসাব পদ্ধতির কারণে এই পরিবর্তন হয়েছে।
কেন্দ্র জানিয়েছে, CPI, WPI এবং GDP Deflator একই জিনিস মাপে না। CPI মূলত সাধারণ মানুষের কেনাকাটার পণ্যের দাম মাপে। WPI পাইকারি বাজারের পণ্য ও কাঁচামালের দাম মাপে। অন্যদিকে GDP Deflator পুরো অর্থনীতির পণ্য ও পরিষেবার দামের পরিবর্তন বিবেচনা করে। তাই CPI বা WPI বেশি হলেও GDP Deflator তুলনামূলক কম হতে পারে।
এর সহজ উত্তর হল, না। Double Deflation মূলত উৎপাদন খাতের GVA হিসাবের জন্য ব্যবহার করা হয়। PFCE অর্থাৎ সাধারণ মানুষ পণ্য ও পরিষেবা কেনার জন্য কত টাকা খরচ করছেন, তার হিসাব। তাই PFCE নির্ধারণে Double Deflation সরাসরি ব্যবহার করা হয় না।
২০২৬-২৭-এর প্রথম ত্রৈমাসিকে Mining & Quarrying-এর Real GVA ২.৪ শতাংশ কমেছে। কিন্তু একই সময়ে খনিজ পণ্যের দাম অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ক্রুড পেট্রোলিয়াম (Crude Petroleum) ও প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas)-এর দাম এপ্রিল, মে ও জুনে যথাক্রমে ৬৯.৫ শতাংশ, ৭২.২ শতাংশ এবং ৩৩.৭ শতাংশ বেড়েছে। ফলে উৎপাদন কমলেও দামের বৃদ্ধির কারণে Nominal GVA ২২.৩ শতাংশ বেড়েছে।
GDP উৎপাদন এবং ব্যয়ের—দুই দিক থেকে হিসাব করা হয়। দুই হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকলে তাকে পরিসংখ্যানগত অমিল (Statistical Discrepancy) বলা হয়।
কেন্দ্র জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে জিডিপি (GDP)-র হিসাব সংশোধন হতে পারে। তবে এখনই বলা সম্ভব নয়, GDP কতটা বাড়বে বা কমবে। চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশের সময় এই পার্থক্য সাধারণত অনেকটাই কমে যায় বা শূন্যের কাছাকাছি চলে আসে।