
নয়াদিল্লি: একদিন পর কী বলবেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা? বাড়ছে জল্পনা। এরই মধ্যে আগামিকাল (৫ অগস্ট) নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে হাসিনার ভার্চুয়ালি ভাষণ দেওয়া নিয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। এই নিয়ে এবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত সরকার। মঙ্গলবার কেন্দ্র জানিয়ে দিল, একটি বেসরকারি সংস্থা ওই সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করছে। এর সঙ্গে ভারতের কোনও ধরনের যোগ নেই। এবং সেখানে কোনও মতামত উঠে এলে, ভারত সরকার তা সমর্থন করে না।
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শেখ হাসিনার সাংবাদিক বৈঠক প্রসঙ্গে বলেন, “আপনি যে অনুষ্ঠানের কথা বলছেন, সেটি একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থা আয়োজন করছে। এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও ধরনের যোগ নেই। সেখানে যে মতামত প্রকাশ করা হতে পারে, সরকার তারও সমর্থন করে না। এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।” তবে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরবেন কি না, সে বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করেন জয়সওয়াল।
আগামিকাল (৫ অগস্ট) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়ালি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। আয়োজকদের দাবি, সেখানে তিনি বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ভাবনাও তুলে ধরবেন।
এদিকে, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার জন্য দেশের সংবাদমাধ্যমকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সরকার। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশের তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভাষণ বা বক্তব্য প্রচার কিংবা প্রকাশ করা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া নির্দেশের লঙ্ঘন হবে। ওই নির্দেশে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেখ হাসিনার বক্তব্য বা ভাষণ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়েন। তাঁর বাংলাদেশ ছাড়ার ২ বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামিকাল। সাম্প্রতিক কয়েকটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। ফলে আগামিকাল ভার্চুয়াল ভাষণে হাসিনা কী বলেন, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। তবে বাংলাদেশের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দেশে ফিরলেই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হবে।