
আহমেদাবাদ: বিমানবন্দরের মাধ্য়মে সোনা পাচারের (Gold Smuggling) চেষ্টা নতুন কিছু নয়। সোনা পাচারে নতুন নতুন পন্থাও অবলম্বন করছে পাচারকারীরা। কখনও দেখা গিয়েছে, অন্তর্বাসে সোনা লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা হচ্ছে, কখনও আবার গোপনাঙ্গে লুকিয়েও সোনা পাচারের অভিযোগ (Gold Smuggling Case) উঠেছে। বিমানের শৌচাগার থেকেও আগে সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এবারও বিমানের শৌচাগার থেকে বিপুল সোনা উদ্ধার হল। তবে, তাতেও নয়া কৌশল অবলম্বন করেছেন পাচারকারীরা। জানা গিয়েছে, বিমানের শৌচাগারের স্পিকারের ভিতর সোনা লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল।
গুজরাটের আহমেদাবাদ বিমানবন্দর (Ahmedabad) থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুবাই থেকে আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (SVPI Airport) পৌঁছয় ইন্ডিগোর (IndiGo) 6E-1478 বিমান। গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পরই বিমানটিতে তল্লাশি চালান শুল্ক দফতরের আধিকারিকরা (Ahmedabad Customs Department)। সঙ্গে ছিলেন ইঞ্জিনিয়ররাও।
সোনার বিস্কুট
তল্লাশির সময় বিমানের টয়লেটের দেওয়ালে লাগানো একটি স্পিকার বক্সের ভিতরে সন্দেহজনক দুটি প্যাকেট দেখতে পান আধিকারিকরা। কালো প্লাস্টিকে মোড়া ওই প্যাকেট দু’টি স্পিকারের ভিতর অডিও মেশিনের পিছনে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এরপর স্পিকার বক্স খুলে পরীক্ষা করে দেখা যায়, ভিতরে রয়েছে ২৪টি সোনার বিস্কুট। যার ওজন ২,৭৯৯.৩ গ্রাম। শুল্ক দফতর সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া সোনার মূল্য ভারতীয় বাজারে প্রায় ৪ কোটি ২৬ লক্ষ ৮৯ হাজার ৩২৫ টাকা।
প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, পাচারকারীরা সোনাগুলি বিমানের টয়লেটের স্পিকারের ভিতরে লুকিয়ে রেখে গিয়েছিল। পরে কোনও যাত্রী বা বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড স্টাফের মাধ্যমে তা বাইরে নিয়ে যাওয়ার ছক কষা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে, তার আগেই শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের কড়া নজরদারি ও তৎপরতায় পাচারের ছকের চেষ্টা বানচাল করা হয়। বিপুল পরিমাণ সোনাকে ১৯৬২ সালের কাস্টমস আইনের অধীনে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এই ঘটনার পিছনে কে বা কারা জড়িত, কীভাবে সোনা বিমানের ভিতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে আহমেদাবাদের শুল্ক দফতর।