
কলকাতা : রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তি দিল কেন্দ্রীয় সরকার। গতকাল, সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস নেওয়ার পর যারা পুরোনো এলপিজি সিলিন্ডার কানেকশন জমা দিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতে প্রয়োজন পড়লেই তা ফিরে পাবেন। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ‘লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস সংশোধনী আদেশ, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো গ্রাহকদের অতিরিক্ত সুবিধে দেওয়া। বিশেষ করে যাঁরা বদলির চাকরি করেন, ভাড়াটিয়া বা ছাত্রছাত্রী – যাঁরা প্রায়ই বাসা বদল করেন, তাদের জন্য এই নিয়ম খুব উপকারী হবে। কোনও পরিবার যদি ভবিষ্যতে এমন এলাকায় চলে যায় যেখানে পাইপলাইনের গ্যাস নেই, তখন তারা সহজেই পুরোনো এলপিজি কানেকশন আবার চালু করতে পারবেন।
গ্রাহকদের জন্য বিকল্প কী কী?
১ – পাইপলাইনের গ্যাস কানেকশন পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে গ্রাহক পুরোনো এলপিজি কানেকশনটি সারেন্ডার করতে পারেন।
২ – বদলে, তাঁরা একটি ‘ট্রান্সফার ভাউচার’ নিয়ে রাখতে পারেন। এটি ব্যবহার করে পরে অন্য এলাকায় গিয়ে সিলিন্ডার কানেকশনটি আবার ফেরত নিতে পারেন। অতীতে বলা হয়েছিল, পিএনজি গ্যাস নিলে এলপিজি গ্যাস সারেন্ডার করতেই হবে। সেই নিয়মের পর প্রায় ৫৯,৮০০ জন গ্রাহক সিলিন্ডার জমা করেছিলেন।
কেন এই পরিস্থিতির শিকার দেশ?
ভারত এলপিজি গ্যাসের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ থাকার কারণে ভারত সঙ্কটে পড়েছিল। কারণ, এই পথ গিয়ে ৯০% এলপিজি গ্যাস আমদানি হত। দেশের ৩৩ কোটি গ্রাহক ও হাসপাতাল, হোটেলে গ্যাসের জোগান নিয়মিত রাখতে সরকার বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ কমিয়েছে এবং গ্যাস বুকিংয়ের ব্যবধান শহরে ২৫ দিন ও ৪৫ দিন করে দিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার পাইপলাইনের গ্যাসের ওপর জোর দিচ্ছে। গত মার্চ থেকে প্রায় ৮ লক্ষ নতুন সংযোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ঘরোয়া গ্যাস ও পাইপলাইনের গ্যাসের সরবরাহকে ১০০% অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার, যার ফলে আদতে উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষই।