
নয়া দিল্লি: মুখ মিষ্টি করতে গেলেও লাগছে মূল্যবৃদ্ধির ছ্যাঁকা। আচমকাই হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম। মাত্র ২০ দিনেই ২০ টাকা বেড়েছে চিনির দাম। এক মাস আগে যেখানে চিনির দাম ৪৫ টাকা ছিল, তা হঠাৎ করেই বেড়ে ৬৫ টাকা হয়ে গিয়েছে। চিনির দাম বাড়তেই স্বাভাবিকভাবে মিষ্টি ও এমন খাদ্যদ্রব্য যেখানে চিনি ব্যবহার হয়, তার দাম বাড়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। এদিকে, আমজনতার রান্নাঘরে তো চিনি লাগেই। তারা কী করবে? চিনির হঠাৎ দাম বৃদ্ধির জেরে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত মানুষকে যে ধাক্কা খেতে রয়েছে, তা থেকে সুরক্ষা দিতে এবার বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের। এই সিদ্ধান্তের জেরে আগামী কিছুদিনের মধ্যে চিনির দাম কমতে পারে।
ভারত চিনির দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক। সাধারণত ভারতে চিনির উৎপাদন বাড়তিই হয়। সেখানেই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির জন্য সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটতে হল সরকারকে। কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১০ লাখ টন চিনি আমদানি করার। এক দশকে এই প্রথম কেন্দ্রকে চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে হল।
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, বর্তমান সময় থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চিনি আমদানি করা হবে। অক্টোবর উৎসবের মরশুম। এই সময়ে চিনির চাহিদা আকাশছোঁয়া হয়। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত। এর পাশাপাশি চিনির মজুতের উপরেও নিষেধাজ্ঞা করেছে। যে পাইকারি গ্রাহকরা মাসে ১০ টনের বেশি চিনি ব্যবহার করেন, তারা ১৫ দিনের বেশি মজুত রাখতে পারবেন না। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলেই জানানো হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে শীঘ্রই চিনির দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই চিনি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ওয়াকিবহাল মহল জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে চিনির কোনও ঘাটতি নেই। চিনির মিলগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জোগান রয়েছে, যা আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তর্দেশীয় চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে। ততদিনে নতুন চিনির জোগানও চলে আসবে, ফলে সঙ্কট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়োএনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা চিনি উৎপাদনের নতুন মরসুম ১৫ থেকে ২০ দিন আগে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেপ্টেম্বরে একটি মরসুম শেষ হতে চললেও, অনুমান করা হচ্ছে যে ততদিনে ৪ মিলিয়ন টন চিনির মজুদ থাকবে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে অক্টোবরে ২.৪ থেকে ২.৫ মিলিয়ন টন চিনি ব্যবহৃত হতে পারে এবং তারপরে ১.৫ মিলিয়ন টন চিনির মজুত থাকতে পারে। নতুন মরসুম ১৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে শুরু হবে এবং মিলগুলি চিনি উৎপাদন শুরু করবে।
চিনির দাম বাড়ার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে উৎপাদন কম হওয়ায় সরকার সেপ্টেম্বরে রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল। চলতি মরসুমের শুরুতে রফতানি শুরু হয়। আগামী মরশুমের জন্য ৪০ থেকে ৪৫ টনের চিনির একটি বাফার স্টকও রাখা হচ্ছে।