
নয়ডা: রাতে নুডলস খেয়েছিলেন। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের। মৃতদের মধ্যে রয়েছে তিন শিশুও। মর্মান্তিক ঘটনাটি (Noida Tragedy) ঘটেছে শনিবার (১৭ অক্টোবর) উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার রাবুপুরা এলাকায়। প্রাথমিকভাবে খাবারে বিষক্রিয়ার (Food Poisoning) আশঙ্কা করছে পুলিশ। তবে সত্যিই নুডলস খাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হতে পারে। এই ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠছে, খাবারে বিষক্রিয়া কি সত্যিই প্রাণঘাতী হতে পারে? নুডলস থেকেও কি হতে পারে মারাত্মক ফুড পয়জনিং?
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারে বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিং সাধারণত দূষিত খাবার কিংবা জল থেকে হয়ে থাকে। খাবারের মাধ্যমে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী কিংবা বিষাক্ত পদার্থ শরীরে প্রবেশ করলে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন মানুষ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পেটব্যথা, বমি বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থও হয়ে ওঠেন অনেকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ এতটাই গুরুতর হতে পারে যে, তা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
আমেরিকার সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) অনুযায়ী, কোন জীবাণু বা বিষাক্ত পদার্থের কারণে খাবারে বিষক্রিয়া হয়েছে, তার উপর নির্ভর করে উপসর্গ দেখা দেওয়ার সময়। কিছু ক্ষেত্রে দূষিত খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন কেউ। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দিতে কয়েক দিনও সময় লাগতে পারে।
গুরুতর ফুড পয়জনিংয়ের ক্ষেত্রে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল ও প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে যেতে পারে। এর ফলে দেখা দেয় ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা। পরিস্থিতি জটিল হলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। কিছু সংক্রমণ বা বিষাক্ত পদার্থ স্নায়ুতন্ত্রের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ছোট শিশু, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, নুডলস সঠিকভাবে রান্না বা সংরক্ষণ করা না হলে তাতেও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। বিশেষ করে ব্যাসিলাস সেরিয়াস (Bacillus cereus) নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ভাত, পাস্তা, নুডলসের মতো খাবারে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
এই ব্যাকটেরিয়ার কিছু প্রজাতি এমন বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে, যার ফলে দূষিত খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বমি, বমি বমি ভাব এবং পেটে ব্যথা শুরু হতে পারে।
শুধু নুডলস নয়, রান্নায় ব্যবহৃত দূষিত জল, অপরিষ্কার বাসনপত্র, ডিম, মাংস কিংবা সবজি থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। রান্না করা নুডলস দীর্ঘক্ষণ ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফেলে রাখলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে। এমনকী, কিছু ব্যাকটেরিয়ার তৈরি বিষাক্ত পদার্থ পুনরায় গরম করলেও সম্পূর্ণ নষ্ট হয় না।
খাবারে বিষক্রিয়া হলে সাধারণত বমি, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, জ্বর এবং পেটের পেশিতে টান ধরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বারবার বমি হওয়া, জল খেয়েও শরীরে রাখতে না পারা, মলের সঙ্গে রক্ত বেরোনো, তীব্র পেটব্যথা, বেশি জ্বর কিংবা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ বিপদের ইঙ্গিত হতে পারে। এছাড়াও মাথা ঘোরা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব বা বিভ্রান্তি দেখা দিলেও দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।