
অমরাবতী: ভারতে সোনা-প্রেমীর সংখ্যা প্রচুর, কিন্তু সোনার (Gold) চাহিদার ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তবে এবার হয়তো সোনার জন্য আর বিদেশের দিকে চেয়ে থাকতে হবে না ভারতকে। দেশের অন্দরেই যে বিপুল সোনার ভাণ্ডার রয়েছে, এতদিন তার হদিস পায়নি কেউ। এবার সেই সোনার খনিই উঠে আসল সবার সামনে। কোন রাজ্য এটি জানেন?
অন্ধ্র প্রদেশে (Andhra Pradesh) মিলল বিপুল সোনার খোঁজ। অন্ধ্র প্রদেশের কুর্নুলে (Kurnool) এই খনির হদিস মিলেছে। আগামী কয়েক বছরেই দেশে সোনার চাহিদার সবথেকে বড় সরবরাহকারী হয়ে উঠতে পারে অন্ধ্র প্রদেশ। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় খনিজ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে, তা ভারতের খনন শিল্পের চিত্রই বদলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে অন্ধ্র প্রদেশ শুধু দেশের সোনা উৎপাদনে শীর্ষস্থান দখল করবে না, পাশাপাশি ভারতের খনিজ ও খনন শিল্পেও নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
কোথায় এত সোনা ছিল?
অন্ধ্র প্রদেশের কুর্নুলে জোন্নাগিরি (Jonnagiri) গ্রামেই একটি খনিতে ৫০ টন সোনা পাওয়া গিয়েছে। মাইনস অ্যান্ড জিওলজি-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মুকেশ কুমার মীনা জানিয়েছেন, রাজ্যে খনিজ খননে নতুন দিশা দেখা যাচ্ছে। এই খনিতে বিপুল পরিমাণ সোনা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রামাগিরি, জাভাকুলা, চিগুরুকুন্তা-বিসনাতমেও সোনার জন্য খনন করা হতে পারে।
এই খনি ভারতের অভ্যন্তরীণ সোনা উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তন হতে পারে। ২০০০ সালে কর্নাটকের কোলার গোল্ড ফিল্ডস (Kolar Gold Fields) বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে দেশের সোনা উৎপাদন সীমিত হয়ে গিয়েছে।
গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কর্নাটকের রাষ্ট্রায়ত্ত হুত্তি গোল্ড মাইনস (Hutti Gold Mines)-ই দেশের একমাত্র বড় সক্রিয় সোনা উৎপাদনকারী খনি হিসেবে কাজ করে আসছে। তবে সেখান থেকে বছরে মাত্র প্রায় ১.৫ টন সোনা উৎপাদিত হয়। অন্যদিকে, ভারতে প্রতি বছর ৮০০ টনেরও বেশি সোনার চাহিদা রয়েছে। ফলে এই বিশাল চাহিদা মেটাতে দেশকে বিপুল পরিমাণ সোনা আমদানি করতে হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রার ভাঁড়ারের উপরে চাপ সৃষ্টি করছে।
এই বিরাট ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যেই অন্ধ্র প্রদেশে জোন্নাগিরি গোল্ড প্রজেক্ট সফলভাবে চালু করা হয়েছে। এটি স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম বৃহৎ বেসরকারি সোনা খনন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জিওমাইসোর সার্ভিসেস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড (Geomysore Services India Private Limited)-এর উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পে ৪০০ কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। ওপেন-পিট বা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে পরিচালিত এই খনির বিস্তৃতি প্রায় ৫৯৮ হেক্টর এলাকা জুড়ে। পুরো মাত্রায় কাজ শুরু হলে আগামী ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর প্রায় এক হাজার কিলোগ্রাম (১ টন) পরিশোধিত সোনা উৎপাদন করার লক্ষ্য রয়েছে এই প্রকল্পের।